প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের মামলায় নতুন করে গতি আসার আশা দেখছে তাঁর পরিবার। ১৪ বছর পর এই মামলায় বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মামলার জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস ও দিদি প্রমিলা রায়। তাঁদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই খুনের মামলায় যেন সঠিক বিচার হয়। সেই সাক্ষাতের পরই মামলায় সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২০১২ সালের ৫ জুলাই খুন হয়েছিলেন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন-এর বাংলার শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ ছিলেন তিনি। অভিযোগ, স্কুল থেকে ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। বরুণের মৃত্যুতে সারা রাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর পরেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ ছিল পরিবারের মধ্যে। ঘটনার পিছনে আসল ষড়যন্ত্রকারী কারা, তা এখনও সামনে আসেনি বলেও অভিযোগ তুলেছিল পরিবার।
এদিকে শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে এই মামলায় ৩৭তম সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, এই মামলায় মোট ৭৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী ৩১ আগস্ট বরুণ বিশ্বাসের ৮৫ বছর বয়সি বাবা জগদীশচন্দ্র বিশ্বাসের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার আট অভিযুক্তের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বিচার চলাকালীন। অন্যদিকে এক অভিযুক্তের বিচার জুভেনাইল কোর্টে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগের পর দ্রুত বিচারের আশায় ফের আশাবাদী বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার মানুষ।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন