Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কাঁপছে পাহাড়! বিচ্ছিন্ন দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগ, বন্ধ ট্রাফিক

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কাঁপছে পাহাড়! বিচ্ছিন্ন দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগ, বন্ধ ট্রাফিক
বালাসন নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে দুধিয়ার বিকল্প সেতুটি। ছবি-সংগৃহীত

দার্জিলিং: এক রাতের বৃষ্টিতেই যেন তছনছ হয়ে গেল গোটা উত্তরবঙ্গের পাহাড়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা প্রকৃতির চরম তাণ্ডবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত দার্জিলিং এবং কার্শিয়াং। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক ঘণ্টায় পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ২০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই অতিভারী বর্ষণের জেরেই ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাহাড়ের লাইফলাইন ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। মহানন্দা নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় বড়সড় ধস নেমেছে। কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বিশাল অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে খাদের দিকে। শুধু ধস নয়, প্রধান সড়কের ওপর একটি বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়ায় আপাতত দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে সমস্ত রকম যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ। এর ফলে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া বহু পর্যটক এবং সাধারণ মানুষ মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছেন বলে খবর।

পাহাড়ের এই দুর্যোগের রূপ কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যাচ্ছে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার পরিস্থিতি দেখে। রাতভর বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের বালাসন নদী আচমকাই রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। নদীর জলের তীব্র তোড়ে নিমেষের মধ্যে ভেসে গিয়েছে দুধিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সেতুটি। সেতুটি জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার কারণে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একাধিক জায়গায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় এবং বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধস সরিয়ে রাস্তা পুরোপুরি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা যাচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত ওই সমস্ত বিপজ্জনক রুটে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যেভাবে আবহাওয়া চোখ রাঙাচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও কতটা জটিল হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর আশঙ্কা।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews NorthBengalRain DarjeelingDisaster LandslideAlert SiliguriTourism HillStationCrisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কাঁপছে পাহাড়! বিচ্ছিন্ন দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগ, বন্ধ ট্রাফিক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image
দার্জিলিং: এক রাতের বৃষ্টিতেই যেন তছনছ হয়ে গেল গোটা উত্তরবঙ্গের পাহাড়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা প্রকৃতির চরম তাণ্ডবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত দার্জিলিং এবং কার্শিয়াং। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, গত কয়েক ঘণ্টায় পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ২০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই অতিভারী বর্ষণের জেরেই ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাহাড়ের লাইফলাইন ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। মহানন্দা নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় বড়সড় ধস নেমেছে। কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বিশাল অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে খাদের দিকে। শুধু ধস নয়, প্রধান সড়কের ওপর একটি বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়ায় আপাতত দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির মধ্যে সমস্ত রকম যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ। এর ফলে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া বহু পর্যটক এবং সাধারণ মানুষ মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছেন বলে খবর।পাহাড়ের এই দুর্যোগের রূপ কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যাচ্ছে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার পরিস্থিতি দেখে। রাতভর বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের বালাসন নদী আচমকাই রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। নদীর জলের তীব্র তোড়ে নিমেষের মধ্যে ভেসে গিয়েছে দুধিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সেতুটি। সেতুটি জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার কারণে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একাধিক জায়গায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় এবং বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধস সরিয়ে রাস্তা পুরোপুরি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা যাচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত ওই সমস্ত বিপজ্জনক রুটে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যেভাবে আবহাওয়া চোখ রাঙাচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও কতটা জটিল হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর আশঙ্কা।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার