Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

হড়পা বানে ধ্বংসের মুখে নেপাল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, এখনও নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
হড়পা বানে ধ্বংসের মুখে নেপাল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, এখনও নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয়
ছবি সংগৃহীত

কাঠমান্ডু: এ যেন পাহাড়ি উপত্যকায় আছড়ে পড়া এক সাক্ষাৎ সুনামি! ডাইনোসরের মতো বিশালাকার একের পর এক সর্বগ্রাসী জলের ঢেউ চোখের পলকে গিলে নিল আস্ত জনপদকে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বুধবার সকালের এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানে মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা গভীর রাত পর্যন্তও আন্দাজ করা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে পর্যন্ত নেপাল সরকার ১৬২টি দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০। এর মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়-সহ ৪০০ বিদেশি রয়েছেন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খোঁজ মিলছে না কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতার ৩২ জন এবং তামিলনাড়ুর ৩৭ জন পুণ্যার্থীর।


নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ৪.৪ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনের অভিঘাতে নিমেষেই ঘটে মারাত্মক তুষারধস। ভেঙে পড়া বিশাল হিমবাহ প্রাথমিকভাবে লেহন্ডে খোলা নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বরফ গলা জল ও কাদার সেই বিশালাকার স্রোত সমস্ত বাধা ভেঙে ভীমগতিতে ভোটেকোশী নদীতে আছড়ে পড়ে। যাত্রাপথে যত এগিয়েছে, ততই দানবীয় রূপ নিয়েছে এই হড়পা বান। চোখের নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে চিন-নেপাল সীমান্তের রাসুয়াগাঢ়ি শহর। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল যে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে, তা কার্যত এখন মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার মুখে। গ্রামের পর গ্রাম জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে, ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে ভারী কালো কাদার স্তূপে।


বুধবার সকাল থেকেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলিতে দেখা গিয়েছে, শান্ত ও ক্ষীণতোয়া ভোটেকোশী নদী মুহূর্তে উন্মত্ত রূপ ধারণ করে গুঁড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে মজবুত সেতু, বহুতল ও আস্ত লোকালয়। অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ বহু মানুষ নেপাল রুট দিয়েই কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ান। যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই তীর্থযাত্রীরা রওনা হয়েছিলেন, দুর্যোগকবলিত এলাকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাঁরাও পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। তাঁদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারগুলির। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও কত শত প্রাণ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তলিয়ে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালি সেনা ও উদ্ধারকারী দল।

বিষয় : naturaldisaster NepalFlood FlashFlood himalayantsunami kathmanduupdate

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


হড়পা বানে ধ্বংসের মুখে নেপাল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, এখনও নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কাঠমান্ডু: এ যেন পাহাড়ি উপত্যকায় আছড়ে পড়া এক সাক্ষাৎ সুনামি! ডাইনোসরের মতো বিশালাকার একের পর এক সর্বগ্রাসী জলের ঢেউ চোখের পলকে গিলে নিল আস্ত জনপদকে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বুধবার সকালের এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানে মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা গভীর রাত পর্যন্তও আন্দাজ করা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে পর্যন্ত নেপাল সরকার ১৬২টি দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০। এর মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়-সহ ৪০০ বিদেশি রয়েছেন।নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খোঁজ মিলছে না কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতার ৩২ জন এবং তামিলনাড়ুর ৩৭ জন পুণ্যার্থীর।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ৪.৪ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। কম্পনের অভিঘাতে নিমেষেই ঘটে মারাত্মক তুষারধস। ভেঙে পড়া বিশাল হিমবাহ প্রাথমিকভাবে লেহন্ডে খোলা নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বরফ গলা জল ও কাদার সেই বিশালাকার স্রোত সমস্ত বাধা ভেঙে ভীমগতিতে ভোটেকোশী নদীতে আছড়ে পড়ে। যাত্রাপথে যত এগিয়েছে, ততই দানবীয় রূপ নিয়েছে এই হড়পা বান। চোখের নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে চিন-নেপাল সীমান্তের রাসুয়াগাঢ়ি শহর। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল যে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে, তা কার্যত এখন মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার মুখে। গ্রামের পর গ্রাম জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে, ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে ভারী কালো কাদার স্তূপে।বুধবার সকাল থেকেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলিতে দেখা গিয়েছে, শান্ত ও ক্ষীণতোয়া ভোটেকোশী নদী মুহূর্তে উন্মত্ত রূপ ধারণ করে গুঁড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে মজবুত সেতু, বহুতল ও আস্ত লোকালয়। অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ বহু মানুষ নেপাল রুট দিয়েই কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ান। যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই তীর্থযাত্রীরা রওনা হয়েছিলেন, দুর্যোগকবলিত এলাকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাঁরাও পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। তাঁদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারগুলির। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও কত শত প্রাণ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তলিয়ে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালি সেনা ও উদ্ধারকারী দল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত