কাঠমাণ্ডু: প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে ফের একবার অসহায় হয়ে পড়ল নেপাল। হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলা। বুধবার সকালে চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় আচমকা ওই হড়পা বান নামে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, বাজার, একের পর এক গাড়ি। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকাই ফুঁসে ওঠে পাহাড়ি নদী ভোটেকোশী। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢল আর তীব্র জলস্রোতে তছনছ হয়ে যায় রসুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে একের পর এক সাজানো গ্রাম। জলের তোড়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু, বহু পাকা ঘরবাড়ি ও সারি সারি যানবাহন। বিপর্যয় এতটাই মারাত্মক রূপ নিয়েছে যে, তিব্বত সীমান্তবর্তী তিমুরে দায়িত্বে থাকা ৯ জন পুলিশকর্মী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ৮ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়তে পারে বলে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত রাসুয়ায় আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের বাস। সূত্রের খবর, এই ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সূত্রপাত তিব্বত এলাকায়। সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ফলেই ভোটেকোশী নদীতে জলের মাত্রা বিপৎসীমার বহুগুণ ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। ঘটনার সময় তিমুর সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা নিজেদের সামলানোর সুযোগটুকুও পাননি। সীমান্ত চৌকি থেকে তৎপরতার সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও পর্যন্ত ৯ জন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর কোনো হদিস মেলেনি। তাঁরা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছেন নাকি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, জলের প্রবল তোড়ে তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় বহু যানবাহন খেলনার মতো ভেসে গিয়েছে এবং যোগাযোগ রক্ষাকারী একটি প্রধান সেতুও পুরোপুরি ভেঙে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে।পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে গোটা এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে নেপাল প্রশাসন। নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর হেলিকপ্টার। নদী তীরবর্তী সমস্ত বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে মুগলিন এলাকা এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা খালি করতে বলা হয়েছে। বুধবার সকালের এই হড়পা বানের পরে জরুরি বৈঠকে বসেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজের জন্য সেনা এবং পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দুর্যোগ মোকাবিলায় চিকিৎসকদের একটি দল এবং অ্যাম্বুল্যান্সও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলিকপ্টারও।উল্লেখ্য, তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ভোটেকোশী নদী নেপালে প্রবেশ করেছে এবং পরবর্তীতে সুনকোশী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে সপ্তকোশী নদী নামে ভারতে প্রবেশ করেছে। এর আগেও এই নদী বহুবার রূপ বদলে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। গত বছরেও এই ভোটেকোশী নদীর প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯ জন এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন ২৪ জন মানুষ; এমনকি ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল নেপাল ও চিনের সংযোগকারী বিখ্যাত মৈত্রী সেতুও। ফের সেই একই নদীর তাণ্ডবে কার্যত দিশেহারা নেপালের পাহাড়বাসী।[TECHTARANGA-POST:12000]হিডেন স্টোরিজ নিউজ