মুম্বইঃ মালাডে সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল একের পর এক গাড়ি। সিগন্যালে থেমেছিল একটি বাইক, কয়েকটি অটোও। আর ঠিক তখনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল একটি ইলেকট্রিক গাড়ি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৪ বছরের এক মহিলার, আহত হয়েছেন আরও ছয় জন।
ঘটনাটি ৩০ আগস্ট রাত ৮টা নাগাদ মুম্বইয়ের মালাড ওয়েস্টের এসভি রোডের একটি জংশনে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে সেই দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সিগন্যালে একাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্রুতগতিতে একটি ইলেকট্রিক গাড়ি এসে পরপর একাধিক গাড়িতে ধাক্কা মারে। প্রথমে রাস্তা পার হওয়া এক মহিলাকে ধাক্কা মারে। এরপর একটি বাইক এবং তিনটি অটোরিকশায় সজোরে আঘাত করে গাড়িটি। দুর্ঘটনার সময় বাইকে স্বামীর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা মায়াঙ্ক সাতরা। গুরুতর জখম হন ৩৪ বছরের প্রিয়াঙ্কা। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর স্বামী মায়াঙ্কের শরীরেও গুরুতর চোট লাগে। মেরুদণ্ডে আঘাত এবং একাধিক হাড় ভাঙার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন অটোরিকশাচালক। অটোর এক যাত্রীর মাথাতেও গুরুতর চোট লাগে।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক ৭০ বছরের কৃষ্ণ শান্তারাম চামানকরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দাবি, ভুল করে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ পড়ে যায়। এরপরই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের একাংশ। থানার বাইরে জড়ো হয়ে তাঁরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চালককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে রিপোর্টে মদ্যপানের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং গাফিলতিতে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। তবে গাড়িটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন