ইট-কাঠ-পাথরের শহরের এই হাঁসফাঁস গরম থেকে বাঁচতে কার না মন চায় একটু পাহাড়ের নিরিবিলি কোলে হারিয়ে যেতে? যেখানে সকালের ঘুম ভাঙবে পাখির কিচিরমিচিরে, পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেবে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র চূড়া আর হিমেল হাওয়া জুড়িয়ে দেবে সব ক্লান্তি। তবে সেই পরিচিত দার্জিলিংয়ের যানজট বা অতিরিক্ত ভিড় যদি আপনার পছন্দের বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে চিন্তার কিছু নেই। পকেটের বাজেটের মধ্যেই এখন উত্তরবঙ্গের বুকে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, যা আপনার ছুটিকে করে তুলতে পারে এক অপূর্ব শান্তিময় অভিজ্ঞতা। চাইলে এই অফবিট গ্রামগুলিই হতে পারে আপনার পরের গন্তব্য।
১. সামালবং
সামালবং ট্যুর এবং খরচ সাধারণত প্রতিদিন মাথাপিছু ১৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। এই খরচের মধ্যে সাধারণত সারাদিনের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে রাতের খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে।এছাড়াও ১ থেকে ৩ বছরের শিশুদের জন্য কোনো খরচ লাগে না। ৩ থেকে ৭ বছরের শিশুদের জন্য অর্ধেক ভাড়া এবং ৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য পুরো ভাড়া দিতে হয়।
২. দাওয়াইপানি
এই অঞ্চলে ভ্রমণ তুলনামূলক খরচ সাপেক্ষ। এখানকার প্রতিদিনের খরচ মাথাপিছু ৫,২০০ থেকে ৭০০০ পর্যন্ত হয়। এই খরচের মধ্যে এনজেপি (NJP) বা বাগডোগরা থেকে গাড়ি ভাড়া, হোমস্টেতে থাকা এবং প্রতিদিনের সব বেলার খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। দার্জিলিং-এর গা ঘেঁষা এই শান্ত পাহাড়ী গ্রামটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় এবং এটি নিরিবিলিতে ছুটি কাটানোর জন্য আদর্শ।
৩. লুংচু ও কাফেরগাঁও
কাফেরগাঁও, পাবং এবং লুংথুং ট্যুরের খরচ মূলত আপনার গ্রুপ সাইজ (কতজন যাচ্ছেন) এবং কত দিনের ট্রিপ তার ওপর নির্ভর করে। প্রতিদিনের খরচ ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ এর মধ্যে। ৪ জনের গ্রুপ হলে মাথাপিছু প্রায় ৭,০০০ থেকে ৮,৫০০ টাকা ।কাপল বা ২ জন হলে: মোট প্রায় ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ সঙ্গে আলাদা ছোট গাড়ি এবং হোমস্টে খরচ।
৪. লেবং ও বিজনবাড়ি
লেবং আর বিজনবাড়ি একসাথে কভার করে একটি স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ বা নিজে গাড়ি বুক করে ঘুরলে আনুমানিক খরচ গ৪ থেকে ৬ জন বা তার বেশি হলে জনপ্রতি প্রায় ৬,০০০ থেকে ৭,৫০০ (এর মধ্যে NJP/শিলিগুড়ি থেকে যাতায়াতের গাড়ি, হোমস্টেতে থাকা এবং ৩ বেলার খাবার যুক্ত), আপনি যদি গাড়ি নিজে আলাদাভাবে ম্যানেজ করেন, তবে লেবং বা বিজনবাড়ির ভালো হোমস্টেগুলোতে থাকা-খাওয়াসহ প্রতিদিন জনপ্রতি খরচ হবে ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা। দার্জিলিং শহরের একদম নীচের এই শান্ত উপত্যকা জুড়ে শুধুই চা বাগান। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্পট হল তিব্বতি রিফিউজি সেলফ হেল্প সেন্টার। যেখানে তিব্বতি কারুশিল্প এবং সংস্কৃতি চোখে পড়ার মতো। আর বিজনবাড়িতে গেলে পাবেন ছোট রঙ্গিত নদীর উপর প্রায় ২০০ ফুট উঁচুতে তৈরি দার্জিলিং জেলার প্রথম গ্লাস-বটম (কাঁচের মেঝে) ঝুলন্ত সেতু বা টিন পুল স্কাইওয়াক ব্রিজ।
৫. চারখোল
জনপ্রতি প্রায় ১২০০–১৫০০ টাকা খরচ হতে পারে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই খাবারও প্যাকেজের মধ্যে থাকে। আর ঘোরার জন্য চরখোলের কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট, গোম্পা দারা, লোলেগাঁওয়ের ঝান্ডি দারা, ক্যানোপি ওয়াক আর লাভা—এই জায়গাগুলো অবশ্যই রাখতে পারেন। স্থানীয় সাইটসিইং -এর জন্য গাড়ি নিলে প্রায় ৩০০০–৪০০০ টাকা/দিন ধরে বাজেট করা ভালো, গাড়ির ধরন ও রুট অনুযায়ী দাম কমবেশি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাহাড় মানেই যে দার্জিলিং-কালিম্পং আর ভিড়ের মধ্যে ঘোরাঘুরি, এমনটা কিন্তু নয়। একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে এই অফবিট গ্রামগুলিই হতে পারে আপনার পরের গন্তব্য। তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে এবার চেনা পাহাড় ছেড়ে অচেনা পাহাড়ের ডাকেই সাড়া দেবেন তো?

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন