কলকাতা: রাজনীতি আর বিনোদন জগতের সমীকরণ কি তবে পুরোপুরি বদলে গেল? প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং যীশু সেনগুপ্তকে একসঙ্গে এক মঞ্চে দেখে সেই চর্চায় নতুন করে ঘি ঢালল টলিউডের অন্দরমহল। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদলের পর থেকেই টলিউডে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে। একসময় প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি গিয়ে তাঁর চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ নিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রঞ্জিত মল্লিককে কলকাতার শেরিফ পদ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপর রঞ্জিত-কন্যা কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার টিকিট দেয় ঘাসফুল শিবির। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূলের পতনের পরপরই রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল। শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর পাশে রঞ্জিত মল্লিকের উপস্থিতি আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা সেই জল্পনাকে ফের উসকে দিল— তবে কি ক্ষমতার পালাবদলের পর রঞ্জিত পরিবার এবার গেরুয়া শিবিরের পিচই মসৃণ করছে?
শুধু রঞ্জিত মল্লিকই নন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং যীশু সেনগুপ্তকে নিয়েও এখন টলিউডে জোর চর্চা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। এবার সরাসরি অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বেও দেখা গেল তাঁকে। অন্যদিকে, জীবনের প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চের কর্মসূচিতে দেখা মিলল অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তকেও। যদিও সুপারস্টার জিৎ এদিনের আয়োজনে ছিলেন না, তবে তাঁকে আগেই বিজেপির ব্রিগেডের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগের সরকারের মতো কেবল দলীয় অনুগতদের মদত দেওয়া বা পৃষ্ঠপোষকতা করার সংস্কৃতি ভেঙে নতুন সরকার টলিউডের মূলধারার সমস্ত তারকাদের যোগ্য সম্মান ও দায়িত্ব দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।
তারকাদের এই নতুন সমীকরণের নেপথ্য কারণ অবশ্য ছিল একটি বড় সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। নিউটাউনে মহাসমারোহে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলো ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর। ২৫ কোটি টাকা খরচে তৈরি হতে চলা এই কেন্দ্রে ৭৫০ আসনের দুটি এবং ১০০০ আসনের একটি বড় থিয়েটার ছাড়াও থাকবে অ্যানিমেশন ও ভিজুয়াল এফেক্টসের আধুনিক ল্যাবরেটরি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীকে নতুন এই প্রকল্পের কালচারাল অ্যাডভাইজার এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে মূল ‘পুরোহিত’ বা কাণ্ডারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যীশু সেনগুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানান, ক্ষণিকের আয়োজনের জন্য নয়, এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগামী প্রজন্ম মনে রাখবে। আর রাজনীতির সমস্ত অলিন্দ পেরিয়ে মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে আজ প্রসেনজিৎ, রঞ্জিত, যীশু ও মিঠুনরা যেন একই সূত্রে গাঁথা পড়লেন।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন