লখনউ: নেপালে হিমবাহ ফেটে সৃষ্টি হওয়া মহাপ্রলয়ের রেশ এবার এসে আছড়ে পড়ল ভারতেও। প্রতিবেশী দেশের দুর্যোগে নারায়ণী ও গণ্ডক নদীর জলস্তর হুহু করে বাড়তে থাকায় উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। নেপালের ত্রিশূলী নদীর অতিরিক্ত জলরাশি নিম্ন অববাহিকায় নেমে আসায় মহারাজগঞ্জ জেলার নিচলৌল-সহ একাধিক এলাকা এখন ভয়াল প্লাবনের আশঙ্কায় কাঁপছে। ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাল্মিকীনগর গণ্ডক বাঁধ থেকে দফায় দফায় ছাড়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জল। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার পর রবিবার সকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় সোয়া লক্ষ কিউসেকে এবং দুপুর ১টার মধ্যে বাঁধ থেকে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর জেরে রোহুয়া নালা উপচে আশপাশের নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হতে শুরু করেছে। বাঁধ ভেঙে গিয়ে পাথালহাওয়া এবং তেলফল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ নিশ্চিহ্ন হওয়ার প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে যোগী প্রশাসন। তবে নিচলৌলের এসডিএম সিদ্ধার্থ গুপ্ত জানিয়েছেন, বাল্মিকীনগর বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৪.৩০ লক্ষ কিউসেক হওয়ায় এখনই অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, প্রশাসন প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার হিমালয়ের হিমবাহ ভেঙে নেপাল ও তিব্বতজুড়ে নেমে আসা ‘২০১২’ সিনেমার মতো দুর্যোগে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭৬৮ জন মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি। সেই প্রলয়ঙ্কর ধ্বংসলীলার পর নতুন করে একটানা বর্ষণ শুরু হওয়ায় নেপালের পাশাপাশি এখন চরম সিঁদুরে মেঘ দেখছে উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত এলাকাও।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন