আগরতলা/নয়াদিল্লি: দেশের প্রগতির আসল কারিগর যুবসমাজই—মাইসুরুর রামকৃষ্ণ মঠের মঞ্চ থেকে এমনই এক নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের সার্বিক উন্নয়নে আজ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এই তরুণরাই। উৎপাদন শিল্প থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনীতি কিংবা মহাকাশ গবেষণা—সমস্ত ক্ষেত্রে ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্যের নেপথ্যে নতুন প্রজন্মের যে সিংহভাগ অবদান রয়েছে, সে কথা অত্যন্ত জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল আধুনিকীকরণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
তবে এই ঘটনাবহুল দিনেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কে জড়ানো এক ১৫ বছরের নাবালিকা প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় সম্পূর্ণ অনুতপ্ত সেই নাবালিকাকে বলতে শোনা যায় যে, সে আন্দোলনকারীদের দ্বারা চরমভাবে প্রভাবিত হয়ে এই মারাত্মক ভুলটি করে ফেলেছিল। সে আরও জানায়, তার বয়স অত্যন্ত কম এবং যে ধরনের অনভিপ্রেত কথা সে বলেছে তা একেবারেই ক্ষমার যোগ্য নয়। এটিকে নিজের জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল হিসেবে উল্লেখ করে, গোটা দেশের কাছে লজ্জা প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে ওই নাবালিকা।
কাকতালীয়ভাবে, এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি করা কটূক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। আন্দোলনের নামে চলা এই ধরনের বিশৃঙ্খলাকে স্রেফ ভুল বোঝার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করেন। মোদী স্পষ্ট জানান, ভুল দিকনির্দেশনার কারণে অনেক সময় তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে জীবন সবাইকে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। সমাজে রাগ ও ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক হলেও দিশাহারা যুবসমাজকে কাছে টেনে সঠিক পথ দেখানোই গুরুজনদের আসল দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি। শাস্তি দিয়ে দূরে ঠেলে না দিয়ে, স্নেহের হাত বাড়িয়ে তরুণদের বোঝানোর এই মানবিক বার্তার পরই নাবালিকার ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন