পানিহাটি: আরজি করের অভয়া কাণ্ডে চরম চাঞ্চল্যকর বাঁক! নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। আর এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির খবর পানিহাটিতে পৌঁছতেই পুরো এলাকায় যেন অকাল দেওয়ালি শুরু হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা ক্ষোভ আর আনন্দের মেলবন্ধনে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে গোটা পানিহাটিতে। রাস্তায় নেমে ঢোল বাজিয়ে নাচ, আবির খেলা এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি নির্মল ঘোষের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে ও কাদা ছিটিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিজেপি কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্টের সেই অভয়া কাণ্ডে, যেখানে অভিযোগ উঠেছিল পরিবারকে না জানিয়ে এবং কোনো খরচ ছাড়াই দ্রুত দেহ সৎকার করে প্রমাণ মুছে ফেলার। ঘটনার জল গড়ালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর সরাসরি নিশানায় ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। গত সোমবারই অভয়ার বাবা খড়দা থানায় এই তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে পাকড়াও করা হয় অন্যতম মূল অভিযুক্ত নির্মল ঘোষকে। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা শুক্রবার সকালে তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিন গ্রেফতারির খবর মিলতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতেন স্থানীয়রা। এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দার কথায়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মদত দেওয়া এবং অত্যাচার চালানোর জন্য নির্মল ঘোষের কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, এই অপরাধ চক্রে যুক্ত বাকি দুই অভিযুক্তকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
পানিহাটির রাস্তায় এদিন ছবিটা ছিল দেখার মতো। একদিকে যেমন চলেছে মিষ্টিবিলি আর উদ্দাম নাচগান, অন্যদিকে তেমনই প্রাক্তন বিধায়কের ওপর তীব্র আক্রোশ প্রকাশ করে তাঁর ছবিতে কাদা মাখিয়ে জুতোর মালা পরানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ যে অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে তারই জবাব মিলল বলে মনে করছেন উত্তেজিত বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন