Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অনন্ত মহারাজের 'বঙ্গবিভূষণ' কেড়ে নিল শুভেন্দুর সরকার, খাঁড়া ঝুলছে সাংসদ পদেও?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
অনন্ত মহারাজের 'বঙ্গবিভূষণ' কেড়ে নিল শুভেন্দুর সরকার, খাঁড়া ঝুলছে সাংসদ পদেও?
অনন্ত মহারাজের 'বঙ্গবিভূষণ' কেড়ে নিল শুভেন্দুর সরকার। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের চরম মাশুল গুনতে হলো বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের মঞ্চে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপি সরকার এবার সেই সম্মান সম্পূর্ণ ফিরিয়ে নিল। রাজভবন ও নবান্ন সূত্রের খবর, নেতাজির অবদান ও চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জেরেই তড়িঘড়ি তাঁর ওপর এই প্রশাসনিক কোপ বসানো হলো। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সাংসদ হলেও দেশনায়ককে অপমানের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র রেয়াত করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল করে তুলেছিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করার মতো নিজস্ব ক্ষমতাই নাকি ছিল না নেতাজির! ব্রিটিশদের বন্দি সৈন্যদের জার্মানি তুলে দিয়েছিল এবং নেতাজি নাকি তার অপব্যবহার করেছিলেন। এমনকি ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্যের পরই জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। বুধবারই এই ইস্যুতে নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, নেতাজিকে অপমান করে পোস্ট করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে গ্রেফতারিও হতে পারে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সাইবার সেলকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরও অবশ্য বিন্দুমাত্র অনুসূচনা দেখা যায়নি অনন্তর কণ্ঠে। সুর না নরম করে নিজের মন্তব্যের সাফাই দিয়ে তিনি জানান, যা ইতিহাস বইয়ে লেখা আছে তিনি কেবল সেটাই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, কোনো মনগড়া গল্প বলেননি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশাসনিকভাবে কে কী ব্যবস্থা নেবেন তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, তবে তিনি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা গালাগালি দেননি। তবে এই মন্তব্যের সাফাই দিলেও ততক্ষণে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।


সম্মান হারানোর পাশাপাশি এবার অনন্ত মহারাজের সাংসদ পদ নিয়েও মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তা জাল বলে অভিযোগ উঠেছে। হলফনামায় বলা হয়েছিল, তিনি ১৯৭৫ সালে অসমের 'সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল' থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। তবে অসম সরকারের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে ওই নামে কোনো স্কুলের অস্তিত্বই নেই! একদিকে নেতাজি বিতর্ক এবং অন্যদিকে জাল হলফনামা মামলা—দ্বিমুখী সাঁড়াশির চাপে এখন কোণঠাসা বিজেপির এই বিতর্কিত সাংসদ।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari anantamaharaj netajicontroversy bangabibhushan

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


অনন্ত মহারাজের 'বঙ্গবিভূষণ' কেড়ে নিল শুভেন্দুর সরকার, খাঁড়া ঝুলছে সাংসদ পদেও?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের চরম মাশুল গুনতে হলো বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের মঞ্চে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপি সরকার এবার সেই সম্মান সম্পূর্ণ ফিরিয়ে নিল। রাজভবন ও নবান্ন সূত্রের খবর, নেতাজির অবদান ও চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার জেরেই তড়িঘড়ি তাঁর ওপর এই প্রশাসনিক কোপ বসানো হলো। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সাংসদ হলেও দেশনায়ককে অপমানের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র রেয়াত করতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল করে তুলেছিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করার মতো নিজস্ব ক্ষমতাই নাকি ছিল না নেতাজির! ব্রিটিশদের বন্দি সৈন্যদের জার্মানি তুলে দিয়েছিল এবং নেতাজি নাকি তার অপব্যবহার করেছিলেন। এমনকি ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্যের পরই জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। বুধবারই এই ইস্যুতে নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, নেতাজিকে অপমান করে পোস্ট করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে গ্রেফতারিও হতে পারে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সাইবার সেলকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরও অবশ্য বিন্দুমাত্র অনুসূচনা দেখা যায়নি অনন্তর কণ্ঠে। সুর না নরম করে নিজের মন্তব্যের সাফাই দিয়ে তিনি জানান, যা ইতিহাস বইয়ে লেখা আছে তিনি কেবল সেটাই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, কোনো মনগড়া গল্প বলেননি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, প্রশাসনিকভাবে কে কী ব্যবস্থা নেবেন তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, তবে তিনি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা গালাগালি দেননি। তবে এই মন্তব্যের সাফাই দিলেও ততক্ষণে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।সম্মান হারানোর পাশাপাশি এবার অনন্ত মহারাজের সাংসদ পদ নিয়েও মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তা জাল বলে অভিযোগ উঠেছে। হলফনামায় বলা হয়েছিল, তিনি ১৯৭৫ সালে অসমের 'সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল' থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। তবে অসম সরকারের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে ওই নামে কোনো স্কুলের অস্তিত্বই নেই! একদিকে নেতাজি বিতর্ক এবং অন্যদিকে জাল হলফনামা মামলা—দ্বিমুখী সাঁড়াশির চাপে এখন কোণঠাসা বিজেপির এই বিতর্কিত সাংসদ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত