কলকাতা: লোকউৎসব ও লোকসংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রথমবার মনসা পুজো উপলক্ষে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নের তরফে এই মর্মে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মনসা পুজো উপলক্ষে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার সমস্ত সরকারি দপ্তর, রাজ্য পরিচালিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুপুর ২টোর পর থেকে আর কোনো কাজকর্ম হবে না। ওই দুটি জেলায় বিশেষ এই অর্ধদিবস ছুটি কার্যকর থাকবে।
হিন্দু পঞ্জিকা ও পুরাণ মতে, শ্রাবণের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে উদযাপিত হয় নাগপঞ্চমী ও মনসা পুজো। ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টে ৫২ মিনিটে শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই তিথি স্থায়ী হওয়ায়, উদয়া তিথি মেনে ১৭ আগস্ট সোমবারই মূল নাগপঞ্চমী ও দেবী মনসার পুজো উদযাপিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী কিছু অঞ্চলে মঙ্গলবারও এই পুজো পালিত হবে। শাস্ত্র ও পুরাণে দেবী মনসার জন্ম ও অস্তিত্ব ঘিরে একাধিক চমকপ্রদ কথকতা রয়েছে। ব্রহ্মা সর্পদংশনের হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য ঋষি কশ্যপকে নির্দেশ দিলে তাঁর ‘মননক্রিয়া’ থেকে আবির্ভূতা হন স্বর্ণবর্ণের দেবী মনসা। অন্যদিকে মঙ্গলকাব্যে বণিক চাঁদ সওদাগরের থেকে মর্ত্যে পুজো পাওয়ার জন্য দেবী মনসার সংগ্রাম এবং লখিন্দর-বেহুলার অমর উপাখ্যান বাঙালি লোক সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ।
পুরাণের অপর ধারায় আবার চণ্ডীর সঙ্গে মনসার বিরোধ, শিবের মানসকন্যা রূপে তাঁর আত্মপ্রকাশ কিংবা ঋষি জরৎকারুর স্ত্রী হিসেবে তাঁর জীবনসংগ্রামের নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। তথাকথিত প্রান্তিক জীব ও মানুষের দেবী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চাঁদ সওদাগরের থেকে পুজো আদায় পর্যন্ত দেবীর লড়াইয়ের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। বিশেষত রাঢ় বাংলার লোকসংস্কৃতিতে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় মনসা পুজোর উন্মাদনা সর্বজনবিদিত। সেই আবেগকে সম্মান জানিয়েই এই দুই জেলায় অর্ধদিবস ছুটি দেওয়ার নবান্নের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক ও শিক্ষা মহলে দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন