শুধু বাড়ি নয়, এবার ‘হাঁড়ি’ও গুনবে সরকার! জনগণনায় জানাতে হবে সংসারের খুঁটিনাটি
শুধু মানুষ নয়, এবার গণনা হবে আপনার বাড়িরও। একই ছাদের নিচে কতজন থাকেন, বাড়িতে ক'টি আলাদা ‘হাঁড়ি’ চড়ে তার তথ্যও দিতে হবে সরকারকে। শুধু তাই নয়, টিভি, রেডিও, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচালয় থেকে শুরু করে সাইকেল বা মোটরবাইক - জনগণনায় সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য জানাতে হবে নাগরিকদের।আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রথম ধাপ, অর্থাৎ গৃহগণনা ও স্ব-শুমার। বুধবার কলকাতার জনগণনা দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এবার জনশুমারে 'হাঁড়ি গণনা'-য় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একটি বাড়িতে কতগুলি পৃথক পরিবার বা সংসার রয়েছে, তা আলাদা করে নথিভুক্ত করা হবে। জনগণনা দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, “একই বাড়িতে যদি দুই ভাই আলাদা সংসার করেন, কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে ছেলে পৃথকভাবে সংসার চালান, তাহলে প্রতিটি আলাদা পরিবারকে পৃথক ‘হাঁড়ি’ হিসেবে ধরা হবে।” এবারই দেশে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে 'স্ব-শুমার' । ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনে জনগণনার নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারবেন। মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সমস্ত তথ্য পূরণ করে চূড়ান্তভাবে জমা দিলেই আবেদনকারীর মোবাইল বা ই-মেলে ১১ সংখ্যার একটি ইউনিক আইডি পাঠানো হবে। যাঁরা ১৫ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও থাকছে বিকল্প ব্যবস্থা। ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। গৃহগণনার সময় কোনও তথ্য ভুল বা অসত্য বলে প্রমাণিত হলে তা প্রশাসনের নজরে আনা হবে।কলকাতাকে এই কাজের জন্য ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জনগণনা কর্মীর দায়িত্বে থাকবে ১৮০ থেকে ২০০টি পরিবার। পুরকর্মীদের পাশাপাশি সরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও এনিউমারেটর সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতায় গোটা জনগণনা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। প্রসঙ্গত, এই গৃহগণনা পর্বের পর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে মূল জনসংখ্যা গণনা। সেই পর্যায়ে পৃথকভাবে নথিভুক্ত করা হবে রূপান্তরকামীদেরও।