কলকাতা: সর্বভারতীয় স্তরের একের পর এক বড় পরীক্ষায় একের পর এক মারাত্মক কেলেঙ্কারি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এবং সিবিএসই মূল্যায়নের পর এবার কেন্দ্রীয় স্তরের ‘এসএসসি জিডি’ (SSC GD) পরীক্ষাতেও বড়সড় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। আর এই জলজ্যান্ত ‘পরীক্ষা দুর্নীতি’ নিয়ে এবার সরাসরি দিল্লির মোদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, বছরের পর বছর রক্ত জল করা কঠিন পরিশ্রম ও প্রস্তুতি নেওয়ার পর ভারতের যুবসমাজকে আজ গভীর হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্র। যে সরকার দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ন্যূনতম স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তারা কোনোভাবেই দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত বা নিশ্চিত করতে পারে না।[TECHTARANGA-POST:9560]গত ২৫ মে আয়োজিত স্টাফ সিলেকশন কমিশনের এই অনলাইন পরীক্ষাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক মারাত্মক অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও পরীক্ষাকেন্দ্রের আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পরীক্ষার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে, কোথাও পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ কম্পিউটার সিস্টেম ক্র্যাশ করেছে, আবার কোথাও প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান এস গোপালাকৃষ্ণন জানিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালীন অনলাইন সিস্টেমে লাগাতার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেই এই বিপত্তি, যদিও প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক গাফিলতির জেরে শেষ পর্যন্ত বহু কেন্দ্রের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, যার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী। রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে এসএসসি কর্তৃপক্ষ আপাতত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9559]গোটা দেশের এই বিস্ফোরক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ৪৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে এই পরীক্ষায় বসেছিল, কিন্তু এই জঘন্য ব্যবস্থার কারণে পরীক্ষা পদ্ধতির ওপর থেকেই মানুষের বিশ্বাসটাই চিরতরে উঠে গিয়েছে। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের দাবি, এটা আসলে কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মেধাকে ধ্বংস করার এক মরিয়া চেষ্টা। এর ফলে দেশের একটা গোটা প্রজন্ম এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, তারা যতই মন দিয়ে পড়াশোনা করুক না কেন, সিস্টেমের এমন গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে তাদের ব্যর্থ হতেই হবে। দেশ গঠন বা যুবসমাজের কর্মসংস্থান নয়, বিজেপির ভারতে আজ প্রতিদিন শুধু পরীক্ষার দুর্নীতি নিয়েই বড় বড় খবর হচ্ছে। অভিষেকের মতে, নিট, সিবিএসই এবং এখন এসএসসির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে যে চরম ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে, দেশের তরুণ প্রজন্ম তা আজীবন মনে রাখবে এবং এর যোগ্য জবাব দেবে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার