কলকাতা: শ্রীরামপুরের মাহেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আইনি জট কাটল না কলকাতা হাই কোর্টেও। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক (সিঙ্গল) বেঞ্চের কাছেই ফেরত পাঠাল। একইসঙ্গে জটিলতা কাটাতে একক বেঞ্চকে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবারের যে মিছিল ও জনসভার পরিকল্পনা কালীঘাট তৃণমূল করেছিল, তা কার্যত বিশ বাঁও জলে চলে গেল।ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার মাহেশে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে একটি বড় মিছিল ও জনসভার ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে। পুলিশি অনুমতি না মেলায় জল গড়ায় হাই কোর্ট পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ কিছু শর্তসাপেক্ষে ঐতিহাসিক জগন্নাথদেবের স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করার ছাড়পত্র দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করে জানান, ওই ময়দানটি পুরোপুরি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট, যেখানে ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা বসে। কোনও ধর্মীয় ট্রাস্ট বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ময়দানে রাজনৈতিক সভা করার জন্য পুলিশ কাউকে জমি ছাড়তে বাধ্য করতে পারে না।শুনানিতে ময়দানের মালিকপক্ষও সরাসরি আদালতে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দেয় যে, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য মাঠ দিতে একেবারেই নারাজ। এরপরই বৃহস্পতিবার বিকেলে শুক্রবারের নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি ঘুগে। তিনি কড়া পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি করার আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভাবা দরকার এবং প্রয়োজনে আয়োজকদের বিকল্প জায়গার সন্ধান করা উচিত। শুক্রবার ফের মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, মাঠের মালিকপক্ষের যাবতীয় আপত্তি ও আবেদন বিবেচনা করে সিঙ্গল বেঞ্চকেই নতুন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপে মাহেশের হাইভোল্টেজ সভা নিয়ে এখন তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।