নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জয়। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA Arrears) নিয়ে চলা আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন সরকারি কর্মী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বকেয়া ডিএ আগামী মার্চ মাস থেকেই দেওয়া শুরু হবে।[TECHTARANGA-POST:7320]মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় লিখেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এই 'মা-মাটি-মানুষ' সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই ‘ROPA 2009’-এর আওতায় থাকা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সরাসরি প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। এই তালিকায় শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারী নন, রয়েছেন পেনশনভোগী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী এবং সরকারি অনুদান-প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ সদস্যও। অর্থ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই এই পেমেন্ট বা অর্থপ্রদানের পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র সংঘাত চলেছে। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলন চালিয়েছে, এমনকি একাধিকবার রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাকও দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টও রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। একদিকে রাজপথে কর্মীদের স্লোগান আর অন্যদিকে আদালতের আইনি প্যাঁচে সরকার যে যথেষ্ট চাপে ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণা অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ। বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ জন্মেছিল, তাকে প্রশমিত করতেই এই ‘কল্পতরু’ অবতার নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির পর এবার সরকারি কর্মীদের এই পাওনা মিটিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের ময়দানে বিরোধীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকতে চাইছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার