Maldah Crime:'যেভাবে পেরেছে কেটেছে!' দশমীর রাতেই বাড়িতে ঢুকে বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে দেদার গুলি, গ্রেফতার এক
মালদহ: মালদহে বিজেপি কর্মী সমীর ঘোষকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় পুলিশের জালে এক তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম রঞ্জন ঘোষ। ঘটনার পরই মোট আটজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে এবং এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে ধৃত রঞ্জন মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে আদালতে তোলা হবে। এদিকে মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।দশমীর আনন্দ-উৎসবের আবহ মুহূর্তেই নিমেষে পরিণত হলো চরম আতঙ্কে। উৎসবের মাঝেই রক্তে ভিজল মালদহ। দশমীর সন্ধ্যায় এক যুবকের ওপর নেমে এল নারকীয় অত্যাচার। হাসুয়ার কোপ থেকে শুরু করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালনা—কোনো কিছুতেই রেয়াত করা হলো না। মৃত্যু নিশ্চিত করতে নির্মমতার সমস্ত সীমা পার করল একদল দুষ্কৃতী। ভয়াবহ এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত রামকেলি এলাকায়। নিহত বিজেপি কর্মীর নাম সমীর ঘোষ (২৭)। এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে মৃতের পরিবার।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে সমীর ঘোষকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। প্রাণভয়ে তিনি প্রায়শই বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে বিজয়া দশমীর দিন তিনি যখন বাড়িতে একাই ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় আততায়ীরা। প্রায় ১০ থেকে ১১ জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল সমীরের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ঢোকে। মৃতের ভাই বিবেক ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ, কোপানোর পাশাপাশি মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে পর পর দুই রাউন্ড গুলিও চালানো হয় সমীরের ওপর। ধারালো অস্ত্র নিয়ে যেভাবে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়েছে, তা দেখে শিহরে উঠছেন স্থানীয়রা।[TECHTARANGA-POST:13800]ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতের ভাইয়ের দাবি, সমীর বহু বছর ধরেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং সেই কারণেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাঁর তীব্র রাজনৈতিক শত্রুতা তৈরি হয়েছিল। সেই পুরোনো আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই খুনের ছক কষা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের পালটা জবাবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের পরিবারের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে এবং ঘটনাটি অন্য রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি ইংরেজবাজার থানার পুলিশ পৌঁছায় এবং রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সংঘর্ষে আহত আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।