নয়াদিল্লি: আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
বুয়েনস আইরেসের এল মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়ে নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের যবনিকাপাত ঘটিয়েছেন ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল মেসি। একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট, বিদায়মঞ্চকেও নিজের রূপকথার তুলিতে রাঙিয়ে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১২৬টি গোল ও রেকর্ড ৬৮টি অ্যাসিস্টের মালিক।
নীল-সাদা জার্সিতে জীবনের দীর্ঘতম ও গৌরবময় অধ্যায়টি শেষ করার পরদিন ঠিক কেমন কাটালেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি? ভেসে গেলেন গোটা বিশ্বের ভালবাসা, শ্রদ্ধা আর অগণিত আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তায়। তবে এই উৎসবের আবহের মাঝেই ধরা পড়ল প্রতিপক্ষ বেনিনের কোচের এক রাশ আক্ষেপ।
মেসির বিদায়সংবর্ধনার পর সবচেয়ে নজরকাড়া ও স্পর্শকাতর বার্তাটি এসেছে তাঁর সহধর্মিণী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর কাছ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসির ট্রফি ও পরিবারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে আন্তোনেলা লেখেন, “কিছু রাত পুরো জীবনকে ব্যাখ্যা করে দেয়। গতকালের রাতটা ছিল ঠিক তেমনই। তোমাকে ঘিরে এত ভালবাসা, মানুষের এত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দেখা কতটা সুন্দর! তুমি এই ভালবাসা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছ লিও। নিজের বিনম্র ব্যক্তিত্ব, নিষ্ঠা এবং এই জার্সির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে তুমি তা গড়ে তুলেছ। এত বছর ধরে আমাদের এত কিছু শেখানোর জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে ভালবাসি।”
পর্দার বাইরের এই পারিবারিক আবেগের পাশাপাশি বিশ্বফুটবলের দিগ্গজরাও এদিন কুর্নিশ জানিয়েছেন মহাতারকাকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্ডো ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “মেসি, এত বছর ধরে নিজের দেশকে রক্ষা করে তুমি যে ইতিহাস তৈরি করেছ, তা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তোমার এই অবিশ্বাস্য অর্জনের প্রতি আমার অশেষ শ্রদ্ধা।”
মেসির প্রাক্তন বার্সেলোনা সতীর্থ নেইমার আবেগঘন হয়ে লেখেন, “ফুটবলকে আরও বেশি ভালবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিরুদ্ধে খেলা যেমন সম্মানের ছিল, তোমার সঙ্গে ইতিহাস লেখা ছিল তার চেয়েও আনন্দের।”
বিদায়ী শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রোনালদিনহো ও লুইস সুয়ারেজও। বোকা জুনিয়র্স, ইন্দিপেনদিয়েন্তে থেকে শুরু করে তাঁর ভালবাসার ক্লাব বার্সেলোনা, সব মহল থেকেই উপচে পড়েছে ভালবাসা।
তবে আনন্দের এই আলোঝলমলে পরিবেশের বিপরীত পিঠে দেখা গেল কিছুটা মনখারাপের সুর। প্রতিপক্ষ বেনিনের কোচ জার্নট রোর এক ফরাসি রেডিও সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, বিদায়ী ম্যাচে হারের দুঃখের চেয়েও তাঁদের বেশি কষ্ট দিয়েছে মেসির একটি স্মৃতিচিহ্ন না পাওয়া। বেনিনের ফুটবলাররা মেসির সঙ্গে একটি ছবি তোলা বা জার্সি বদলানোর বহু চেষ্টা করলেও কড়া নিরাপত্তার কারণে ড্রেসিংরুম বা টানেলে ঢোকার অনুমতি পাননি।
রোর জানান, “আমরা বেনিনের জাতীয় পতাকার রঙে ফুলের তোড়া দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নিরাপত্তার কড়াকড়িতে তা সম্ভব হয়নি। তবে ২০০৮ সালের একটি পুরোনো টি-শার্ট আমি কোচ স্কালোনিকে দিয়ে মেসিকে দিয়ে সই করিয়ে নিতে পেরেছি, ব্যস ওটুকুই।”
২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে ২০৮টি ম্যাচ খেলে শেষ হলো এক রূপকথার যুগ। নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে লিওনেল মেসি যে চিরস্থায়ী আসন অলঙ্কৃত করে থাকবেন, তা এই বিদায়বেলার মহাসমারোহই পুনর্বার প্রমাণ করে দিল।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন