নয়াদিল্লি: এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ঐতিহাসিক রূপকথা লিখলেন মহীশূরের ২৩ বছর বয়সি তরুণী প্রণভী উরস। প্রথম ভারতীয় মহিলা গলফার হিসেবে এশিয়াডে ব্যক্তিগত সোনা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।
শুধু তাই নয়, অনবদ্য এই পারফরম্যান্সের উপর ভর করে অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগরের সঙ্গে ভারতের হয়ে দলগত রুপোও জয় করেন তিনি। তবে মেডেল তালিকার এই চোখধাঁধানো রূপোলি সাফল্যের মাঝেও ক্রীড়াপ্রেমীদের একটাই কৌতুহল, কে এই প্রণভী উরস? কী ভাবে ভারতীয় গলফে ঘটল তাঁর এই উল্কাগতিতে উত্থান?
কর্নাটকের ঐতিহ্যবাহী শহর মহীশূর থেকে উঠে আসা প্রণভীর গলফ জীবনের শুরুটা ছিল কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার গল্প। ছোটবেলা থেকেই গলফ কোর্সে বল ড্রাইভ করার প্রতি তাঁর স্বাভাবিক সহজাত দক্ষতা নজরে পড়েছিল প্রশিক্ষকদের।
ভারতীয় গলফ সার্কিটে উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর একে একে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেন তিনি। অদম্য জেদ আর মানসিকভাবে শক্ত থাকার ক্ষমতা, এই দুই হাতিয়ারেই গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলা গলফের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন ২৩ বছরের এই ভারতীয় কন্যা।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আয়োজিত এশিয়ান গেমসে প্রণভীর এই সোনা জয়ের পথ অবশ্য মোটেই মসৃণ ছিল না। তৃতীয় দিনের শেষে চার-আন্ডার ৬৬ স্কোর করে তিন শটের বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি।
কিন্তু ফাইনাল রাউন্ডের শুরুতেই তৈরি হয় চূড়ান্ত নাটকীয়তা। তৃতীয় হোলে একটি মারাত্মক ট্রিপল বোগি করে বসেন প্রণভী, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে উবে যায় তাঁর ৩ শটের লিড। সাধারণ গলফার হলে হয়তো সেখানেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়তেন, কিন্তু প্রণভী প্রমাণ করলেন কেন তিনি আলাদা ধাতুতে গড়া!
চাপের মুখে অসাধারণ আত্মসংযমের পরিচয় দিয়ে ষষ্ঠ, দশম এবং ত্রয়োদশ হোলে তিনটি দুর্দান্ত বার্ডি হাঁকিয়ে ঘুরে দাঁড়ান এই তরুণী। শেষ ৭২তম হোলে নিখুঁত পার (Par) করে লিডারবোর্ডের শীর্ষে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন তিনি।
চার দিনে মোট ১৫-আন্ডার ২৬৫ স্কোর করে চিনের ইন রুওনিংকে মাত্র ১ শটের ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের জন্য প্রথম সোনা ছিনিয়ে নেন প্রণভী। স্মরণীয় এই সাফল্যের পর আবেগঘন গলায় প্রণভী বলেন, “যে কোনও কাজে প্রথম হতে আমার সব সময় দারুণ লাগে। পরে তো অনেকেই আসবে, কিন্তু প্রথম তো চিরকাল একজনই থেকে যাবে।”
প্রণভীর এই রূপকথার দিনেই দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়েছে ভারত। অদিতির দুর্দান্ত ৬৭ স্কোর এবং দীক্ষার যৌথ প্রচেষ্টায় ভারত মোট ১৪-আন্ডার ৫৪৬ স্কোর করে রৌপ্য পদক নিশ্চিত করে। চিনের দল ২২-আন্ডার খেলে স্বর্ণপদক লাভ করে।
২০০২ সালের বুসান এশিয়াডে শিব কাপুরের সোনা জয়ের দীর্ঘ ২৪ বছর পর ভারতীয় গলফে ফের এল ব্যক্তিগত সোনা। একই সঙ্গে ১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়াডের পর এটাই ভারতীয় গলফের সর্বকালের সেরা এশিয়ান গেমস পারফরম্যান্স। আর সেই রূপকথার কেন্দ্রে এখন কেবলই এক নাম, মহীশূরের প্রণভী উরস!

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন