Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

SIR : নির্বাচন কমিশনের 'এসআইআর' সতর্কবার্তার মুখে লক্ষ্মণ-মহেশ বাবু-সামান্থারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
SIR : নির্বাচন কমিশনের 'এসআইআর' সতর্কবার্তার মুখে লক্ষ্মণ-মহেশ বাবু-সামান্থারা!
এসআইআরের কবলে এবার দক্ষিণের তারারা।

হায়দরাবাদ: ভোট ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এবার সমান খড়্গ নেমে এলো সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের অতি-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের (VIP) ওপর। হায়দরাবাদের বিলাসবহুল জুবিলি হিলস এলাকার বাসিন্দা একের পর এক তারকা ক্রিকেটার, অভিনেতা, পরিচালক এবং শিল্পপতিকে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় নোটিস পাঠালো তেলেঙ্গানার নির্বাচন কমিশন। তালিকায় প্রাক্তন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণ, মিতালি রাজ থেকে শুরু করে সুপারস্টার মহেশ বাবু, সামান্থা রুথ প্রভু, চিত্রপরিচালক এস এস রাজামৌলি কিংবা ব্যাডমিন্টন গুরু পুলেল্লা গোপীচান্দের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিরা রয়েছেন।

তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম বা বাবা-মায়ের নামের বানানে অসঙ্গতি, ঠিকানা পরিবর্তন অথবা ২০০৪ সালের পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকার সঙ্গে পুরনো তথ্য না মেলার (Unmapped Data) কারণেই এই প্রশাসনিক নোটিশ জারি করা হয়েছে। 

নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও অভিনেত্রী সামান্থার ক্ষেত্রে বানানের গরমিল ধরা পড়েছে। আবার 'বাহুবলী' খ্যাত পরিচালক এস এস রাজামৌলি এবং প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক মিতালি রাজের নাম পুরনো নথির সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়ায় নোটিশ জারি হয়েছে। এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন অভিনেতা ভেঙ্কটেশ দাগ্গুবাটি, বিজয় দেবরাকোন্ডা, ব্যাডমিন্টন তারকা সাইনা নেহওয়াল, পারুপল্লি কাশ্যপ, অ্যাপোলোর উপাসনা কোনিডেলা এবং প্রখ্যাত ফার্মা ট্রাইকুন মুরালি কৃষ্ণা ডিবির মতো ব্যক্তিত্বরা।

বিষয়টি সামনে আসতেই জল্পনা তুঙ্গে উঠলে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) আর ভি কর্নন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কোনও অপরাধমূলক নোটিশ নয়, বরং ভোটার তালিকা নিখুঁত করার এক সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে নোটিস প্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে নামের ভুল বা অসঙ্গতি সংশোধন করে নিতে বলা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, “তারকাদের ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য তারকাদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না; তাঁদের হয়ে পরিবারের প্রতিনিধি বা অনুমোদিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার (ERO) কাছে কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন।”

ভোটার তালিকার এই বিশাল সংস্কার অভিযান কেবল তেলেঙ্গানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা বিভাজনের পর এই প্রথম প্রায় ৩.৩ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের এত বড় উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল হায়দরাবাদেই সাড়ে ১২ লক্ষেরও বেশি নাগরিককে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। 

একই ধরনের এসআইআর সংশোধন ড্রাইভ চলছে পার্শ্ববর্তী কর্ণাটকেও। সেখানে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে ইনফোসিস সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি এবং জেরোধা (Zerodha) প্রতিষ্ঠাতা নিখিল ও নিখিন কামাথকেও বাবা-মায়ের নামের ভুল বা আনম্যাপড ক্যাটগরিতে একই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বা ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি স্রেফ তথ্য সংশোধনের একটি ধাপ। আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার তালিকায় দাবি ও আপত্তি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে এবং আগামী ৯ নভেম্বর রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত নিখুঁত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews #HiddenStoriesNews #SIRNotice #ElectionCommission #HyderabadVIPs #VVSLaxman #MaheshBabu #Samantha #SSRajamouli #SainaNehwal #ElectoralRolls #TelanganaNews #BreakingNewsBengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


SIR : নির্বাচন কমিশনের 'এসআইআর' সতর্কবার্তার মুখে লক্ষ্মণ-মহেশ বাবু-সামান্থারা!

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
হায়দরাবাদ: ভোট ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এবার সমান খড়্গ নেমে এলো সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের অতি-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের (VIP) ওপর। হায়দরাবাদের বিলাসবহুল জুবিলি হিলস এলাকার বাসিন্দা একের পর এক তারকা ক্রিকেটার, অভিনেতা, পরিচালক এবং শিল্পপতিকে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় নোটিস পাঠালো তেলেঙ্গানার নির্বাচন কমিশন। তালিকায় প্রাক্তন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণ, মিতালি রাজ থেকে শুরু করে সুপারস্টার মহেশ বাবু, সামান্থা রুথ প্রভু, চিত্রপরিচালক এস এস রাজামৌলি কিংবা ব্যাডমিন্টন গুরু পুলেল্লা গোপীচান্দের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিরা রয়েছেন।তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম বা বাবা-মায়ের নামের বানানে অসঙ্গতি, ঠিকানা পরিবর্তন অথবা ২০০৪ সালের পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকার সঙ্গে পুরনো তথ্য না মেলার (Unmapped Data) কারণেই এই প্রশাসনিক নোটিশ জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র অনুযায়ী, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও অভিনেত্রী সামান্থার ক্ষেত্রে বানানের গরমিল ধরা পড়েছে। আবার 'বাহুবলী' খ্যাত পরিচালক এস এস রাজামৌলি এবং প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক মিতালি রাজের নাম পুরনো নথির সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়ায় নোটিশ জারি হয়েছে। এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন অভিনেতা ভেঙ্কটেশ দাগ্গুবাটি, বিজয় দেবরাকোন্ডা, ব্যাডমিন্টন তারকা সাইনা নেহওয়াল, পারুপল্লি কাশ্যপ, অ্যাপোলোর উপাসনা কোনিডেলা এবং প্রখ্যাত ফার্মা ট্রাইকুন মুরালি কৃষ্ণা ডিবির মতো ব্যক্তিত্বরা।বিষয়টি সামনে আসতেই জল্পনা তুঙ্গে উঠলে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) আর ভি কর্নন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কোনও অপরাধমূলক নোটিশ নয়, বরং ভোটার তালিকা নিখুঁত করার এক সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে নোটিস প্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে নামের ভুল বা অসঙ্গতি সংশোধন করে নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “তারকাদের ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য তারকাদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না; তাঁদের হয়ে পরিবারের প্রতিনিধি বা অনুমোদিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার (ERO) কাছে কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন।”ভোটার তালিকার এই বিশাল সংস্কার অভিযান কেবল তেলেঙ্গানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা বিভাজনের পর এই প্রথম প্রায় ৩.৩ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের এত বড় উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল হায়দরাবাদেই সাড়ে ১২ লক্ষেরও বেশি নাগরিককে ফর্ম দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের এসআইআর সংশোধন ড্রাইভ চলছে পার্শ্ববর্তী কর্ণাটকেও। সেখানে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে ইনফোসিস সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি এবং জেরোধা (Zerodha) প্রতিষ্ঠাতা নিখিল ও নিখিন কামাথকেও বাবা-মায়ের নামের ভুল বা আনম্যাপড ক্যাটগরিতে একই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বা ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এটি স্রেফ তথ্য সংশোধনের একটি ধাপ। আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার তালিকায় দাবি ও আপত্তি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে এবং আগামী ৯ নভেম্বর রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত নিখুঁত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত