বীরভূম: বিশ্বখ্যাত সতীতীর্থ তারাপীঠে মা তারার পুণ্যদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ পেতে চলেছেন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত। পুণ্যার্থীদের ভিড় ও দর্শনের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবারের শুভ সকাল থেকে শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত মা তারার মূল গর্ভগৃহ সংস্কারের কাজ। ভক্তরা যাতে ভিড়ের মাঝেও স্বচ্ছন্দে মায়ের রূপ দর্শন করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে গর্ভগৃহের প্রধান দরজা এবং মূল বেদির উচ্চতা বড়সড় বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। মন্দির সূত্রে খবর, দ্রুত গতিতে এই সংস্কারের কাজ শেষ করে আবারও পূর্বের মহিমায় মন্দিরদ্বার খুলে দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই উৎসব-পার্বণে তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের তিল ধারণের জায়গা থাকে না। দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের নাটমন্দিরে দাঁড়িয়ে মায়ের চরণ ও রূপ সঠিকভাবে দর্শন করতে বেগ পেতে হতো। সেই ভোগান্তি দূর করতেই গর্ভগৃহের দরজার উচ্চতা প্রায় এক ফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যে বেদির ওপর মা বিরাজ করেন, সেটির উচ্চতাও প্রায় আট ইঞ্চি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই জোড়া বদল সম্পন্ন হলে নাটমন্দিরে বা মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়েই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও স্বচ্ছন্দে মা তারার দর্শন মিলবে।
সংস্কারের সুবিধার জন্য এবং নিয়ম বজায় রাখতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই সোমবার রাত ১০টার পর মূল গর্ভগৃহ থেকে মা তারাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে মন্দির চত্বরে অবস্থিত শিবমন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে। মা তারার স্থান পরিবর্তন হলেও দৈনন্দিন রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচারে বিন্দুমাত্র ছেদ পড়ছে না। ঐতিহ্য মেনে শিবমন্দিরেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পুজো, ভোগ নিবেদন এবং অন্যান্য যাবতীয় পুণ্যকর্ম সম্পন্ন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য ওই অস্থায়ী স্থানেই পুজো দেওয়ার বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে, যাতে তাঁদের ধর্মীয় কাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মূলত পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা ভেবেই গর্ভগৃহের দরজা ও বেদির উচ্চতা বাড়াতে এই বড় পদক্ষেপ। মঙ্গলবার থেকেই রাজমিস্ত্রি ও কারিগররা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সংস্কার সম্পন্ন হতেই পূর্ণ রীতিনীতি মেনে মাকে আবার মূল গর্ভগৃহে সসম্মানে ফিরিয়ে আনা হবে। নতুন এই পরিবর্তনের পর ভিড়ের চাপ সামলে ভক্তরা অনেক বেশি আনন্দে ও শান্তিতে মায়ের দর্শন পাবেন বলে আশাবাদী মন্দির কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন