টাকি: ঢাকের বাদ্যি থেমে আসছে, আর তার সঙ্গেই মন ভার বাঙালির। “আসছে বছর আবার হবে”, এই অপেক্ষায় আবারও দিনগোনা শুরু। পাঁচ দিনের আনন্দ শেষে এবার উমাকে বিদায় জানানোর পালা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা বরণ, সিঁদুরখেলা। উত্তর ২৪ পরগনার টাকির ঐতিহ্যবাহী পুবের বাড়ির দুর্গাপুজোয় বিসর্জন ঘিরে রয়েছে একাধিক প্রাচীন রীতি। এই পুজো প্রায় ৩০৭ বছরের পুরনো। তবে এখনও দেবীর বিদায়পর্বেও ধরে রাখা হয়েছে পূর্বপুরুষদের চালু করা নানা আচার।
টাকির পুবের বাড়ির দুর্গোৎসবের বিশেষত্ব হল দেবীকে পান্তা ভাত ও কচুশাক নিবেদন। এরপর ২৪ বেহারার কাঁধে চড়ে কৈলাসের পথে রওনা দেবেন উমা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই প্রথা। সিঁদুর খেলা থেকে শুরু করে মঙ্গলযাত্রা, দেবীর বিদায়কে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যস্ততার পাশাপাশি রয়েছে আবেগ। আনন্দের উৎসব শেষ হওয়ার মুখে তাই ঠাকুরদালানে মিশে যায় বিষাদের সুর।
টাকির পুবের বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ পরম্পরা। অবিভক্ত বাংলার স্মৃতি বহন করে চলেছে এই প্রাচীন ঠাকুরদালান। দেশভাগের পর ভৌগোলিক সীমানা বদলেছে, কিন্তু এই পুজোকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের টান বদলায়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও এই পুজো দেখতে আসেন বহু মানুষ।
ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত টাকি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জন্যও পরিচিত। নদীর দুই পারে দুই দেশ থাকলেও ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন আজও মানুষের আবেগে জায়গা করে রয়েছে। টাকির দুর্গোৎসব এবং বিসর্জনও সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই অংশ।
বিষয় : Durga Puja 2026

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন