নন্দীগ্রাম: মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে এক আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকছে রাজ্যের সবথেকে চর্চিত বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম! মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ময়দানে নামমাত্র উপস্থিতি ঘাসফুল শিবিরের, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। দলীয় প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মমতার তৃণমূল কার্যত এই ময়দানে অনুপস্থিত। এমন এক রাজনৈতিক আবহে সকাল থেকেই নন্দীগ্রামের এক বুথ থেকে অন্য বুথে ঘুরে লড়াইয়ের মেজাজ বজায় রেখেছেন সদ্য জামিনে মুক্ত হওয়া কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। সকালে স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে নিয়ে কেন্দামারির বুথে ভোট দেওয়ার পরেই একের পর এক এলাকা পরিদর্শনে বের হন তিনি। কিন্তু সোনাচূড়ার জলপাই বুথে পৌঁছোনো মাত্রই চরম অসন্তোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকেই! ক্ষুব্ধ ভোটাররা তাঁকে ঘিরে ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, যা সামাল দিতে কালঘাম ছোটে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেন কংগ্রেস প্রার্থী শ্রী মিলন প্রধানের নির্বাচনী এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্র। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে তাঁর দাবি, ১৯৩ নম্বর বুথে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইমেল মারফৎ অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি বয়াল-২ জিপির ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর বুথ সম্পূর্ণভাবে দখল হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও গোকুলনগরের ২৫০ থেকে ২৬৯ নম্বর বুথে ধারাবাহিক ও সংগঠিতভাবে বুথ রিগিং চলছে বলে দাবি ইলেকশন এজেন্টের।
শুধু প্রার্থীকে ঘেরাও-ই নয়, সকাল থেকেই তুমুল অশান্তি ও হিংসার ছায়া বজায় রইল গোটা নন্দীগ্রাম জুড়েই। ভোট প্রক্রিয়ার শুরুতেই ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসরাফুলতুল্লাকে। এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অভিযোগ তোলেন, “আমাদের এজেন্টদের একের পর এক বুথে আটকে দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রকে এভাবে কেন গলা টিপে মারা হচ্ছে? এত কম সময়ের মধ্যে যদি কংগ্রেসকে আটকাতে এত কৌশল নিতে হয়, তবে বুঝতে হবে নন্দীগ্রামের মানুষ এবার কোনো ভূমিপুত্রকেই তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাইছেন!” ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে ফোন করে অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে, সরবেড়িয়ায় হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক সিপিআই প্রার্থীর এজেন্ট।
এই উপনির্বাচনে কেবল জয় নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া এই আসনে অন্তত ৬০ হাজার ভোটের রেকর্ড ব্যবধান গড়াই মূল লক্ষ্য বিজেপির। সেখানে দলের হয়ে লড়ছেন শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্ত সহায়কের মা হাসিরানি রথ। তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে বাকি বিরোধীদের মধ্যে নামমাত্র লড়াইয়ে সামিল সিপিআই-এর শান্তি গিরি এবং অন্য এক গোষ্ঠীর প্রার্থী এহতেশামুল হক। ফলে মাঠ ফাঁকা পেয়ে গেরুয়া শিবির যখন নিজেদের মার্জিন বাড়াতে মরিয়া, তখন বিরোধী মুখ হিসেবে কংগ্রেসের এই মরিয়া প্রতিরোধ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন