কলকাতা: পুজো আসতে আর হাতে গুনে কয়েকটা দিন বাকি। উৎসবের আমেজে তিলোত্তমা সেজে ওঠার প্রস্তুতি নিলেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বেহাল রাস্তাঘাট। বঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের চার মাস যেতে না যেতেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে অনেকটাই। বিরোধী দল তৃণমূল খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার পাশাপাশি কলকাতা পুরবোর্ড ছেড়েছেন মেয়র থেকে শুরু করে মেয়র পারিষদের সদস্যরা। আপাতত প্রশাসকের কাঁধেই রয়েছে পুর-পরিষেবার সমস্ত দায়ভার। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন বরোর পিচ উঠে গিয়ে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তবে এই অচলাবস্থা কাটাতে এবার বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা করল পুরপ্রশাসন।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকর্মা পুজো শেষ হলেই শহরজুড়ে জোরকদমে শুরু হয়ে যাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ। বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে থাকায় এত দিন পিচের কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছিল। তবে মহানগরের প্রধান সড়কগুলিতে ইতিমধ্যেই রাতের বেলায় পিচ ঢালার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুরসভার ‘রোড ডিপার্টমেন্ট’। পামারবাজার ও গোঁরাগাছা প্ল্যান্ট থেকে প্রয়োজনীয় পিচ ও স্টোনচিপসের মিশ্রণ বা ‘গরম মশলা’ সব জায়গায় ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে ১৬টি বরোতে পুরোদমে কাজ শুরু করা যায়নি। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর পর সেই জট সম্পূর্ণ কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোটের আগে শহরে পানীয় জল ও নিকাশীর লাইন বসানোর জন্য প্রচুর রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই রাস্তাগুলি ঠিকমতো মেরামত না করায় এবং বৃষ্টির জল জমে পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক নির্দেশ না থাকায় বিগত পাঁচ মাস ধরে আইনি জটিলতায় থমকে ছিল মেরামতের কাজ। প্রতি বছর পুজোর দু’মাস আগে রাস্তা কাটায় যে নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ ‘এমবার্গো’ জারি করা হতো, এ বছর তা চালু না হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুরপ্রকৌশলীরা। রাস্তা মেরামতের পর বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করলে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও শীর্ষস্তরের সুনির্দিষ্ট উত্তরের অপেক্ষায় তারা। তবে ঠিকাদারদের বকেয়া সংক্রান্ত ক্ষোভ ও আর্থিক টানাটানির মধ্যেও বরো এক্সিকিউটিভরা আশ্বাস দিয়েছেন, বিশেষ ‘মেরামতের তহবিল’ ব্যবহার করে মহালয়ার আগেই শহরের সিংহভাগ পিচ রাস্তা পুরোপুরি সংস্কার করে ফেলা হবে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন