Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Bengal Politics: 'ওরাই আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছিল!' পুজোর আগেই ১৭ জন সাংসদের পদ্ম-যোগ? কোচবিহারের সাংসদের দাবিতে শোরগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Bengal Politics: 'ওরাই আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছিল!' পুজোর আগেই ১৭ জন সাংসদের পদ্ম-যোগ? কোচবিহারের সাংসদের দাবিতে শোরগোল
কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। ফাইল ছবি

কোচবিহার : দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে রাজ্য তথা দেশের রাজনীতিতে আবার মহা-ভূমিকম্পের ইঙ্গিত! জাতীয় রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় ফেলে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর দেওয়া তথ্য সত্যি হলে এনসিপিআই-এর (NCPI) বড়সড় একটি অংশ যোগ দিতে চলেছে বিজেপি শিবিরে। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই দুর্গাপুজোর আগে বা পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মপতাকা হাতে তুলে নিতে চলেছেন বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন বসুনিয়া।

সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, আইনি জটিলতা এড়াতে এতদিন তাঁদের এক প্রকার ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় বিধিনিষেধ ও কঠোর দলত্যাগবিরোধী আইনকে ফাঁকি দিতেই বিজেপি তাঁদের প্রথমে এনসিপিআই (NCPI) নামে নতুন মঞ্চ গঠনে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০ জন বিদ্রোহীর মধ্যে ১৪ জন গেলেই দুই-তৃতীয়াংশের আইনি শর্ত পূরণ হয়, আর তাঁরা ১৭ জন একজোট হয়ে পদ্মশিবিরে যোগ দেবেন। ফলে দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে কারও সদস্যপদ খারিজ হওয়ার কোনও সুযোগই থাকছে না বলে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল তাঁর গলায়।

তবে দলের তিন জন সংখ্যালঘু প্রতিনিধি— আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানকে এখনই সরাসরি বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন বসুনিয়া। তাঁদের নির্বাচনী অঞ্চলগুলি প্রধানত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় কৌশলগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত। সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও এই তিন প্রতিনিধি আদতে এনডিএ (NDA)-র অংশ হিসেবেই সমান্তরাল ভাবে কাজ করবেন এবং কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দফতরের দায়িত্বে তাঁদের রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, এই মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণ বসুনিয়ার নিজের, বিজেপির এতে কোনও সম্পর্ক নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বাইরে বেরোলেও লোকসভার খাতায়-কলমে তাঁরা এখনও ঘাসফুল শিবিরের সদস্য। লোকসভায় তৃণমূলের প্রধান সচেতক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছিলেন। তবে লোকসভা সচিবালয়ের পাঠানো নোটিসের জাবাবে কারণ দর্শাতে স্পিকারের কাছ থেকে আরও তিন সপ্তাহের ছাড় পেয়েছেন ওই সাংসদরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি লড়াইকে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেলেও, ওই প্রতিনিধিরা কিন্তু মোদী-শাহদের সঙ্গ ছাড়েননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের বৈঠকে যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে দিল্লিতে এনডিএ-র প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার কি তবে ভোটের শেষ চালে সরাসরি বিজেপির পতাকা উঠবে তাঁদের হাতে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।


বিষয় : BJP BengalPolitics BreakingNewsBengal AbhishekBanerjee HiddenStoriesNews MamataBanerjee delhipolitics NCPI JagadishBasunia

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Bengal Politics: 'ওরাই আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছিল!' পুজোর আগেই ১৭ জন সাংসদের পদ্ম-যোগ? কোচবিহারের সাংসদের দাবিতে শোরগোল

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কোচবিহার : দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে রাজ্য তথা দেশের রাজনীতিতে আবার মহা-ভূমিকম্পের ইঙ্গিত! জাতীয় রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় ফেলে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর দেওয়া তথ্য সত্যি হলে এনসিপিআই-এর (NCPI) বড়সড় একটি অংশ যোগ দিতে চলেছে বিজেপি শিবিরে। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই দুর্গাপুজোর আগে বা পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মপতাকা হাতে তুলে নিতে চলেছেন বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন বসুনিয়া।সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, আইনি জটিলতা এড়াতে এতদিন তাঁদের এক প্রকার ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় বিধিনিষেধ ও কঠোর দলত্যাগবিরোধী আইনকে ফাঁকি দিতেই বিজেপি তাঁদের প্রথমে এনসিপিআই (NCPI) নামে নতুন মঞ্চ গঠনে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০ জন বিদ্রোহীর মধ্যে ১৪ জন গেলেই দুই-তৃতীয়াংশের আইনি শর্ত পূরণ হয়, আর তাঁরা ১৭ জন একজোট হয়ে পদ্মশিবিরে যোগ দেবেন। ফলে দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে কারও সদস্যপদ খারিজ হওয়ার কোনও সুযোগই থাকছে না বলে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল তাঁর গলায়।তবে দলের তিন জন সংখ্যালঘু প্রতিনিধি— আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানকে এখনই সরাসরি বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন বসুনিয়া। তাঁদের নির্বাচনী অঞ্চলগুলি প্রধানত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় কৌশলগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত। সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও এই তিন প্রতিনিধি আদতে এনডিএ (NDA)-র অংশ হিসেবেই সমান্তরাল ভাবে কাজ করবেন এবং কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দফতরের দায়িত্বে তাঁদের রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, এই মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণ বসুনিয়ার নিজের, বিজেপির এতে কোনও সম্পর্ক নেই।সাম্প্রতিক সময়ে এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে বাইরে বেরোলেও লোকসভার খাতায়-কলমে তাঁরা এখনও ঘাসফুল শিবিরের সদস্য। লোকসভায় তৃণমূলের প্রধান সচেতক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছিলেন। তবে লোকসভা সচিবালয়ের পাঠানো নোটিসের জাবাবে কারণ দর্শাতে স্পিকারের কাছ থেকে আরও তিন সপ্তাহের ছাড় পেয়েছেন ওই সাংসদরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি লড়াইকে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেলেও, ওই প্রতিনিধিরা কিন্তু মোদী-শাহদের সঙ্গ ছাড়েননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের বৈঠকে যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে দিল্লিতে এনডিএ-র প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার কি তবে ভোটের শেষ চালে সরাসরি বিজেপির পতাকা উঠবে তাঁদের হাতে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত