নয়াদিল্লি: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ‘এসআইআর’ বাতিল করার দাবিতে বিরোধীদের সুবিশাল রাজপথ অভিযানের আগে কার্যত সেনাছাউনিতে পরিণত হল দেশের রাজধানী দিল্লি। প্রতিবাদের আঁচ তীব্র হতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারায় ১৪৪ জারির পাশাপাশি গোটা শহরকে মুড়ে ফেলা হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয়ে। শুধু মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখতে তড়িঘড়ি তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার।
শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-এর যৌথ মহা-বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই রণসজ্জা। দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই আন্দোলনের কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। উল্টে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে প্রায় ২৬ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) ও আধা-সেনা মোতায়েন করা হয়েছে রাজপথে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের পর দিল্লিতে এত বিপুল সংখ্যক আধা-সেনার উপস্থিতি আর কখনও দেখা যায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছে সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ ও এসএসবি-র মতো শক্তিশালী বাহিনী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তীসগঢ় থেকে তুলে এনে আরও ১১০টিরও বেশি অতিরিক্ত কোম্পানি দিল্লিতে আছড়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে মোট ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, সীমান্তে এবং যন্তর মন্তরের আশেপাশে পাহারা দিচ্ছে। কেবল ছাত্র-যুবরাই নন, একাধিক পেশাজীবী সংগঠন এবং কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিরোধী জোটের ভারী মাথারাও এই প্রতিবাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত রুখতে শহরে অ্যাপ-ক্যাব চলাচল ও সাধারণ যানবাহন চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। এর ফলে চরম যানজট ও আমজনতার চূড়ান্ত নাভিশ্বাস ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সিইসি-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ এখন শাসক-বিরোধী মহারণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিষয় : DELHIPROTEST CJP Protest delhihighalert

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন