কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা আর উত্তর ২৪ পরগনার এক নামী চিকিৎসকের বিয়ের কথা বার্তা পাকা হয়েছিল বেশ ক'মাস আগেই। স্বাভাবিকভাবেই দুই পরিবারে তখন উৎসবের মেজাজ। নতুন সম্পর্ক, ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার স্বপ্ন বুনছিলেন শিক্ষিকাও। কিন্তু সেই সাজানো স্বপ্নের অন্দরেই যে লুকিয়ে ছিল চরম প্রতারণা ও এক বিভৎস নরকযন্ত্রণা, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। হবু স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার গোপন খবর পেয়েই মোড় ঘোরে গল্পের। আর সেই সম্পর্কের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে পঞ্চসায়রের এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে যা ঘটল, তা যেন কোনো রুদ্ধশ্বাস ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
সন্দেহের ডালপালা ছড়াতেই একদিন আগাম না জানিয়েই সোজা পঞ্চসায়রে হবু স্বামীর ফ্ল্যাটে গিয়ে হাজির হন ওই শিক্ষিকা। বেল বাজিয়ে দরজা খুলতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। চোখের সামনে তখন চরম প্রতারণার ছবি—হবু স্বামী লিপ্ত অন্য এক নারীর সঙ্গে! ঘটনা দেখে ক্ষোভে-হতাশায় ফেটে পড়েন শিক্ষিকা, শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। তবে চিকিৎসক হবু স্বামী তখন চটজলদি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। 'সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার' অজুহাতে দু'দিন পর আবারও সেই নিভৃত ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয় হবু স্ত্রীকে।
কিন্তু সরল বিশ্বাসে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় পা রাখাই যে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, তা হাড়ে হাড়ে টের পান যুবতী। দরজা বন্ধ হতেই চিকিৎসকের রূপ বদলে যায় হিংস্র পশুর মতো। কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আচমকা শিক্ষিকার ওপর চড়াও হয় সে। এলোপাতাড়ি মারধর, মুখে বালিশ চেপে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা—চলতে থাকে নারকীয় তাণ্ডব। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করার পর অসাড় হয়ে পড়া হবু স্ত্রীর ওপর চালানো হয় পাশবিক যৌন অত্যাচার। এখানেই শেষ নয়, যুবতীর মুখে জোর করে গুঁজে দেওয়া হয় মারাত্মক কিছু ওষুধ, যাতে তিনি মুখ খোলার মতো অবস্থায় না থাকেন।
কোনোমতে জীবন হাতে নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সেই ফ্ল্যাট থেকে পালিয়ে আসেন নির্যাতিতা। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ওষুধের বিষক্রিয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নজরে শরীরে অত্যাচারের চিহ্ন ফুটতেই খবর যায় পুলিশের কাছে। কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠতেই পঞ্চসায়র থানায় হবু স্বামী-সহ অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুনের চেষ্টা ও প্রতারণার লিখিত অভিযোগ জানান নির্যাতিতা। বর্তমানে অভিযুক্ত আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিচ্ছে বলে খবর। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে অভিযুক্ত চিকিৎসক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
বিষয় : CRIMEUPDATE Panchasayer

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন