Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মেঘ সরলেও স্বস্তি নেই ! মঙ্গল থেকে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস, তৈরি প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেঘ সরলেও স্বস্তি নেই ! মঙ্গল থেকে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস, তৈরি প্রশাসন
ফাইল ছবি

কলকাতা: দিনকয়েকের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পরিস্থিতির পর অবশেষে শনিবার সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল তিলোত্তমা তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ। গত কয়েকদিনের নাজেহাল অবস্থার পর সপ্তাহের শেষে কলকাতার আকাশে দেখা মিলেছে মিঠে রোদের। 

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনি ও রবিবার শহরের আকাশে রোদের দেখা মিললেও হালকা থেকে মাঝারি ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে, তবে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা আপাতত নেই। কিন্তু আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এই রোদেলা ভাব নেহাতই সাময়িক। মঙ্গলবার থেকেই আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটে আবার বর্ষণের ধার ও দাপট চড়চড়িয়ে বাড়তে চলেছে রাজ্যজুড়ে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে বাতাসের ওপরের স্তরে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী অক্ষরেখাটি রাজস্থান থেকে মণিপুর হয়ে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরভাগের ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় ভাদ্র মাসের স্বাভাবিক প্যাচপ্যাচে গরম কিছুটা কম হলেও, গোটা রাজ্যজুড়েই বৃষ্টির রেশ বজায় থাকবে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শনিবার ও রবিবার প্রধানত আংশিক মেঘলা আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসল চিন্তা মঙ্গলবার নিয়ে। মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের দাপট প্রবল বাড়বে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। 

বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। সাগরের জলচ্ছ্বাস ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মুর্শিদাবাদে আগামী ২৪ ঘণ্টাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিতে, দক্ষিণবঙ্গ কিছুটা স্বস্তি পেলেও উত্তরবঙ্গে কিন্তু বৃষ্টির তাণ্ডব থামার লক্ষণ নেই। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই মেঘের গর্জনের সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের জোরদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো পাহাড়ি ও তরাই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে 'হলুদ সতর্কতা' (Yellow Alert)। মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকছে।

কলকাতার আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৬৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। 

শহরে আপাতত আগামী তিন-চার দিন ভারী বৃষ্টির বড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও, মঙ্গলবার থেকে মেজাজ বদলাবে শহরের আবহাওয়াও। তবে মৎস্যজীবীদের জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি আবহাওয়া দফতর।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেঘ সরলেও স্বস্তি নেই ! মঙ্গল থেকে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস, তৈরি প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দিনকয়েকের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পরিস্থিতির পর অবশেষে শনিবার সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল তিলোত্তমা তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ। গত কয়েকদিনের নাজেহাল অবস্থার পর সপ্তাহের শেষে কলকাতার আকাশে দেখা মিলেছে মিঠে রোদের। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনি ও রবিবার শহরের আকাশে রোদের দেখা মিললেও হালকা থেকে মাঝারি ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে, তবে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা আপাতত নেই। কিন্তু আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এই রোদেলা ভাব নেহাতই সাময়িক। মঙ্গলবার থেকেই আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটে আবার বর্ষণের ধার ও দাপট চড়চড়িয়ে বাড়তে চলেছে রাজ্যজুড়ে।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে বাতাসের ওপরের স্তরে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী অক্ষরেখাটি রাজস্থান থেকে মণিপুর হয়ে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরভাগের ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় ভাদ্র মাসের স্বাভাবিক প্যাচপ্যাচে গরম কিছুটা কম হলেও, গোটা রাজ্যজুড়েই বৃষ্টির রেশ বজায় থাকবে।দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শনিবার ও রবিবার প্রধানত আংশিক মেঘলা আকাশ ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসল চিন্তা মঙ্গলবার নিয়ে। মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের দাপট প্রবল বাড়বে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। সাগরের জলচ্ছ্বাস ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মুর্শিদাবাদে আগামী ২৪ ঘণ্টাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিতে, দক্ষিণবঙ্গ কিছুটা স্বস্তি পেলেও উত্তরবঙ্গে কিন্তু বৃষ্টির তাণ্ডব থামার লক্ষণ নেই। উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই মেঘের গর্জনের সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের জোরদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো পাহাড়ি ও তরাই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে 'হলুদ সতর্কতা' (Yellow Alert)। মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকছে।কলকাতার আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৬৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। শহরে আপাতত আগামী তিন-চার দিন ভারী বৃষ্টির বড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও, মঙ্গলবার থেকে মেজাজ বদলাবে শহরের আবহাওয়াও। তবে মৎস্যজীবীদের জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি আবহাওয়া দফতর।হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত