Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Muhammad Yunus: ‘আপনি জঙ্গি’, মার্কিন বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে ক্ষোভ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Muhammad Yunus: ‘আপনি জঙ্গি’, মার্কিন বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে ক্ষোভ!
নিউইয়র্ক এয়ার পোর্টে বিক্ষোভের মুখে মহম্মদ ইউনূস। ছবি: এক্স

নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা, দেদার গ্রেফতার আর রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরি করার মাশুল কি এবার সুদে-আসলে গুনতে শুরু করলেন মহম্মদ ইউনূস? 

নোবেলজয়ী শান্তিদূত থেকে বিতর্কিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। পতনের পর প্রথম বিদেশযাত্রাতেই ঘোর চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো তাঁকে। আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রোষের মুখে পড়লেন প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা। উড়ে এলো ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা, গালিগালাজ এবং দেশে ফিরে যাওয়ার স্লোগান।

সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে দোহা হয়ে নিউ ইয়র্কের টার্মিনাল ৮-এ নামেন ইউনূস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী লামিয়া মোর্শেদ। বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময়ই একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। 

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি ইউনূসের দিকে চেঁচিয়ে বলছেন, "আপনি একজন সন্ত্রাসবাদী! বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। এখানে কেন এসেছেন? জবাব দিন!" মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দর চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি ইউনূস ও তাঁর সহযোগীকে ফের বিমানবন্দরের নিরাপদ ভেতরে নিয়ে যান।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে যেভাবে সংঘাত, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা, বিচারবহির্ভূত গ্রেফতরা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল, প্রবাসীদের এই ক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। 

উপরন্তু, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউনূস একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে আন্দোলনে যুক্তদের অপরাধমূলক তদন্ত থেকে আইনি সুরক্ষা দেন। এমনকি হাজার হাজার পুলিশ কর্মী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত আটকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

শুধু অভ্যন্তরীণ অরাজকতাই নয়, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে যাওয়া এবং চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার দরুন কূটনৈতিক মহলেও চরম সমালোচিত হয়েছিলেন ইউনূস। বর্তমানে তাঁর ও তাঁর সংস্থা ‘গ্রামীণ গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

একদা যে প্রবাসীরা তাঁকে মাথায় তুলে রাখতেন, আজ ক্ষমতার অলিন্দ থেকে চ্যুত হতেই নিউ ইয়র্কের মাটিতে তাঁদের মুখ থেকেই শুনতে হলো ‘সন্ত্রাসবাদী’ অপবাদ। রক্তাক্ত বাংলাদেশের সেই অরাজকতার ছায়া যে এভাবে বিদেশের মাটিতেও তাঁকে তাড়া করে বেড়াবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #MuhammadYunus #JFKAirport #NewYork #BangladeshCrisis #YunusHeckled #YunusProtest #InterimGovernment #BangladeshPolitics #USNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


Muhammad Yunus: ‘আপনি জঙ্গি’, মার্কিন বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে ক্ষোভ!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা, দেদার গ্রেফতার আর রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরি করার মাশুল কি এবার সুদে-আসলে গুনতে শুরু করলেন মহম্মদ ইউনূস? নোবেলজয়ী শান্তিদূত থেকে বিতর্কিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। পতনের পর প্রথম বিদেশযাত্রাতেই ঘোর চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো তাঁকে। আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রোষের মুখে পড়লেন প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা। উড়ে এলো ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা, গালিগালাজ এবং দেশে ফিরে যাওয়ার স্লোগান।সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের বিমানে দোহা হয়ে নিউ ইয়র্কের টার্মিনাল ৮-এ নামেন ইউনূস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী লামিয়া মোর্শেদ। বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময়ই একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি ইউনূসের দিকে চেঁচিয়ে বলছেন, "আপনি একজন সন্ত্রাসবাদী! বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। এখানে কেন এসেছেন? জবাব দিন!" মুহূর্তের মধ্যে বিমানবন্দর চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা কর্মীরা তড়িঘড়ি ইউনূস ও তাঁর সহযোগীকে ফের বিমানবন্দরের নিরাপদ ভেতরে নিয়ে যান।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে যেভাবে সংঘাত, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা, বিচারবহির্ভূত গ্রেফতরা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল, প্রবাসীদের এই ক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। উপরন্তু, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউনূস একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে আন্দোলনে যুক্তদের অপরাধমূলক তদন্ত থেকে আইনি সুরক্ষা দেন। এমনকি হাজার হাজার পুলিশ কর্মী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত আটকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে।শুধু অভ্যন্তরীণ অরাজকতাই নয়, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে যাওয়া এবং চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার দরুন কূটনৈতিক মহলেও চরম সমালোচিত হয়েছিলেন ইউনূস। বর্তমানে তাঁর ও তাঁর সংস্থা ‘গ্রামীণ গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।একদা যে প্রবাসীরা তাঁকে মাথায় তুলে রাখতেন, আজ ক্ষমতার অলিন্দ থেকে চ্যুত হতেই নিউ ইয়র্কের মাটিতে তাঁদের মুখ থেকেই শুনতে হলো ‘সন্ত্রাসবাদী’ অপবাদ। রক্তাক্ত বাংলাদেশের সেই অরাজকতার ছায়া যে এভাবে বিদেশের মাটিতেও তাঁকে তাড়া করে বেড়াবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত