কলকাতা: আসন্ন হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়াল দলীয় প্রতীক বিতর্ক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবগঠিত ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে নির্বাচন কমিশন ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নিজের দলের ট্রেডমার্ক প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি দেওয়ার পর এবার সোজা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ভাঙড়ের এই দাপুটে নেতা। ভোটের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আচমকা এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে আইএসএফ শিবির।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। চলতি বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগেই, মার্চ মাসে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে এই ‘খাম’ প্রতীকটি কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করিয়েছিল নওশাদ সিদ্দিকির দল। কিন্তু হঠাৎ করেই গত শুক্রবার জোড়াফুল কাণ্ডের জেরে কমিশন ঋতব্রত শিবিরের নতুন গোষ্ঠীকে সেই একই ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে দেয়। কমিশনের এই নির্দেশের পরেই সুর চড়িয়েছেন নওশাদ। তাঁর প্রশ্ন, যে রাজনৈতিক দলের ইতিপূর্বে কোনো অস্তিত্বই ছিল না, তারা কোন জাদুবলে রাতারাতি ‘রেকগনাইজড পার্টি’র তকমা পেয়ে এমন প্রতীক হাতিয়ে নেয়?
নওশাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রতীক বরাদ্দের এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো গভীর অন্যায় খেলা কাজ করছে। তিনি সাফ জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দলের সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকা উচিত, কিন্তু এমন পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত অবাধ নির্বাচনের পরিপন্থী। প্রতীক বিতর্ককে কেবল আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে, নির্বাচনের রাজনৈতিক চরিত্র ও স্বচ্ছতা রক্ষার বৃহত্তর ইস্যু হিসেবেই আদালতের দরবারে পেশ করছেন আইএসএফ নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত উপনির্বাচন। ভোটের প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় প্রতীক ছিনতাইয়ের মতো বড় ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আইএসএফ। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামেও এই প্রতীক বিভ্রাট নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, হাই কোর্টে নওশাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কমিশনকে কী নির্দেশ দেয় এবং আইএসএফ তাদের পুরনো প্রতীক ফেরত পায় কি না।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন