আজ কৌশিকী অমাবস্যা। আর এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে সকাল থেকেই ভক্তরা ভিড় জমিয়েছেন বীরভূমের তারাপীঠে। পুজো, নিশিপালন এবং বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
২০২৬ সালে কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। তাই তারাপীঠে মা তারার বিশেষ পুজো ঘিরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। বৃহস্পতিবার ভোররাতেই শুরু হয় দিনের প্রথম পর্ব। প্রায় ৩টে নাগাদ মন্দিরের দরজা খোলা হয়। এরপর মা তারাকে স্নান করানো হয়। তারপর হয় মঙ্গলারতি। ভোর ৪টে থেকেই ভক্তদের জন্য খুলে যায় মন্দিরের দরজা। দুপুরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মন্দির বন্ধ থাকবে। এরপর আবার শুরু হবে দর্শন। কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ আকর্ষণ মায়ের রাজকীয় ভোগ। দুপুরের ভোগে থাকছে খিচুড়ি, সাদা ভাত, বলিদানের মাংস, শোল মাছ পোড়া, বিভিন্ন ধরনের মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। সন্ধ্যায় হবে মায়ের সন্ধ্যারতি।
প্রতি বছরই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্ত ও পর্যটকদের বিপুল সমাগম হয়। এবারও সেই ভিড় সামলাতে আগে থেকেই বড়সড় প্রস্তুতি নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী। মন্দির ও তারাপীঠ চত্বর জুড়ে বসানো হয়েছে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর জন্য রয়েছে ১১টি ওয়াচ টাওয়ার। ভক্তদের সাহায্যের জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৭টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র। দর্শনের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ১৪টি জায়ান্ট স্ক্রিন।
যাতায়াতের সুবিধার জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মুনসুবা মোড় থেকে তারাপীঠের সোনার বাংলা মোড় পর্যন্ত ভক্তদের পৌঁছে দিতে ৮টি বাস রাখা হয়েছে। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর এই বাসগুলি চলবে। কলকাতা থেকেও ভক্তদের জন্য রয়েছে ১০টি বাস। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। রয়েছে ৮টি ফায়ার রোবট টেন্ডার।
পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৫ জন সদস্যও প্রস্তুত রয়েছেন। ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ পানীয় জলের পাউচ। রয়েছে মোট ৮টি সেবা শিবিরও। কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠে লোকসংস্কৃতির আয়োজনও করা হয়েছে। বাউল এবং লোকশিল্পীদের প্রায় ৪০টি দল এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
বিষয় : Kaushiki Amavasya Spirituality

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন