নয়া দিল্লি: দেশের রাজধানীতে প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যন্তর মন্তর চত্বরে এবার থেকে সমস্ত ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির সুপারিশ মেনেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবিবারে দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের সই করা নির্দেশিকাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে কি সরকারের বিরুদ্ধে চলা ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের কণ্ঠরোধ করতেই এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ? এই প্রশ্নই এখন জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন ও ধর্না চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সরকারি দফতরগুলির কাছাকাছি অবস্থিত এই এলাকায় যাতায়াত এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। এর পরিবর্তে রাজধানীর তিন প্রান্তে তিনটি বিকল্প মাঠ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন—মধ্য ও পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। যন্তর মন্তর থেকে এই নতুন জায়গাগুলির দূরত্ব যথাক্রমে ৩ কিলোমিটার থেকে শুরু করে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই নতুন মাঠগুলিতে প্রতিবাদ করতে হলে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা এসওপি মেনে অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক সময়ে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলন বারবার সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর থেকেই আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি, যা পরবর্তীতে সাফল্যও পেয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ফের যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল তারা। কিন্তু পুলিশি কড়াকড়ি ও পূর্বানুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে গত শনিবার ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ, যার জেরে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। এর পরেও দমে না গিয়ে সোমবার সিজেপি প্রতিনিধি দল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাইতে থানায় যায়। ঠিক তার আগেই যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারির খবর সামনে আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দিল্লি পুলিশের এই কড়া নির্দেশিকা সামনে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক। তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন যে, ভীরু একনায়কের সরকারের কারণে যন্তর মন্তর আজ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সরকারের এই দমনপীড়ন যে তাঁদের দমাতে পারবে না, সেকথা স্পষ্ট করে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন যে, এ বার থেকে গোটা দেশই যন্তর মন্তরে পরিণত হবে। সব মিলিয়ে, প্রতিবাদের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে রাজধানী উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আগামী দিনে দেশজুড়ে এর বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিষয় : CJP Protest Jantar Mantar indian politics

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন