Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ঈশানের মহাকাব্যিক ডবল টন! চেন্নাইয়ে রানপাহাড় গড়ে ইতিহাস পূর্বাঞ্চলের অধিনায়কের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঈশানের মহাকাব্যিক ডবল টন! চেন্নাইয়ে রানপাহাড় গড়ে ইতিহাস পূর্বাঞ্চলের অধিনায়কের
দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক হিসাবে ইতিহাস ঈশানের।

চেন্নাই: দলীপ ট্রফির ফাইনালে তিলক বর্মার দক্ষিণ অঞ্চলের বিরুদ্ধে ব্যাটে ঝড় তুলে এক ঐতিহাসিক অধিনায়কোচিত দ্বিশতরান হাঁকালেন ঈশান কিষাণ। প্রথম দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত থাকা ঈশান দ্বিতীয় দিনেও নিজের রুদ্রমূর্তি ধরে রেখে গড়লেন অনন্য নজির। শেষ পর্যন্ত ৩৩৪ বলে ২৭০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর এই মারমুখী অথচ পরিণত ইনিংসে সাজানো ছিল ৩০টি চোখধাঁধানো চার এবং ৭টি বিশাল ছক্কা।

দলীপ ট্রফির দীর্ঘ ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচে দ্বিশতরানের মাইলফলক স্পর্শ করা মাত্র পঞ্চম ব্যাটার হলেন ঈশান। এর আগে কেবল রমন লাম্বা (৩২০), অংশুমান গায়কোয়াড় (২১৬), চেতেশ্বর পূজারা (২৫৬ অপরাজিত) এবং যশস্বী জয়সওয়াল (২০৯) এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে দ্বিশতরান করার কীর্তি অর্জন করেছিলেন। 

পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের ক্রিকেট ইতিহাসেও নিজের নাম সোনালী অক্ষরে খোদাই করলেন এই বাঁহাতি তারকা। অরুণ লাল (যিনি দু’বার এই কীর্তি গড়েন) এবং সাবা করিমের পর পূর্বাঞ্চলের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে দলীপ ট্রফিতে দ্বিশতরান করলেন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সাবা করিম শেষবার এই কীর্তি গড়ার ঠিক ৩০ বছর পর ঈশানের ব্যাট থেকে এল এই ঐতিহাসিক ডবল টন। এই অনবদ্য ইনিংসের পথেই লাল বলের ক্রিকেটে ৪,০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১০ম শতরানটিও পূর্ণ করে ফেললেন অধিনায়ক।

চেন্নাইয়ের চরম ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে গিয়ে মারাত্মক শারীরিক অস্বস্তিতে পড়েন ঈশান। ব্যক্তিগত ২৫০ রানের মাথায় ডিহাইড্রেশনের কারণে তিনি 'রিটায়ার্ড হার্ট' হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে বাধ্য হন। তবে অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে পরবর্তীতে ফের ক্রিজে ফেরেন এবং রান সংখ্যাকে ২৭০-এ নিয়ে গিয়ে থামেন। লাল বলের ক্রিকেটে নিজের ফিটনেস, ক্লাস ও ধৈর্য প্রমাণ করে জাতীয় নির্বাচকদের কাছেও এটি ঈশানের এক জোরালো বার্তা।

ঈশানকে যোগ্য সঙ্গ দেন পূর্বাঞ্চলের অপর শতরানকারী কুমার কুশাগ্র। ১৩২ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছয়ের সৌজন্যে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এ ছাড়া অনুকূল রায় ৪৫, কৌনাইন কুরেশি ৪০ এবং মহম্মদ শামি ব্যাটে দ্রুত ২৮ রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রানের এক বিশাল ইমারত গড়ে তোলে পূর্বাঞ্চল।

১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জেতার সুবর্ণ সুযোগ এখন ঈশানদের সামনে। পাঁচ দিনের এই ফাইনাল ম্যাচে সরাসরি ফলাফল না এলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার ভিত্তিতেই চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে। ফলে ট্রফির দাবিদার হতে গেলে তিলকদের অন্তত ৭০৯ রান করতে হবে। চেন্নাইয়ের উইকেটে ইতিমধ্যে স্পিনাররা সাহায্য পেতে শুরু করায় ১৬৩ ওভারের পুরনো উইকেটে দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য এই রান তাড়া করা একপ্রকার হিমালয় ডিঙোনোর সমান।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews #IshanKishan #DuleepTrophy #DoubleCentury #EastZone #CricketNews #HiddenStoriesBangla #IndianCricket #RedBallCricket #KolkataSports #DuleepTrophyFinal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঈশানের মহাকাব্যিক ডবল টন! চেন্নাইয়ে রানপাহাড় গড়ে ইতিহাস পূর্বাঞ্চলের অধিনায়কের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
চেন্নাই: দলীপ ট্রফির ফাইনালে তিলক বর্মার দক্ষিণ অঞ্চলের বিরুদ্ধে ব্যাটে ঝড় তুলে এক ঐতিহাসিক অধিনায়কোচিত দ্বিশতরান হাঁকালেন ঈশান কিষাণ। প্রথম দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত থাকা ঈশান দ্বিতীয় দিনেও নিজের রুদ্রমূর্তি ধরে রেখে গড়লেন অনন্য নজির। শেষ পর্যন্ত ৩৩৪ বলে ২৭০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর এই মারমুখী অথচ পরিণত ইনিংসে সাজানো ছিল ৩০টি চোখধাঁধানো চার এবং ৭টি বিশাল ছক্কা।দলীপ ট্রফির দীর্ঘ ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচে দ্বিশতরানের মাইলফলক স্পর্শ করা মাত্র পঞ্চম ব্যাটার হলেন ঈশান। এর আগে কেবল রমন লাম্বা (৩২০), অংশুমান গায়কোয়াড় (২১৬), চেতেশ্বর পূজারা (২৫৬ অপরাজিত) এবং যশস্বী জয়সওয়াল (২০৯) এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে দ্বিশতরান করার কীর্তি অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের ক্রিকেট ইতিহাসেও নিজের নাম সোনালী অক্ষরে খোদাই করলেন এই বাঁহাতি তারকা। অরুণ লাল (যিনি দু’বার এই কীর্তি গড়েন) এবং সাবা করিমের পর পূর্বাঞ্চলের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে দলীপ ট্রফিতে দ্বিশতরান করলেন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সাবা করিম শেষবার এই কীর্তি গড়ার ঠিক ৩০ বছর পর ঈশানের ব্যাট থেকে এল এই ঐতিহাসিক ডবল টন। এই অনবদ্য ইনিংসের পথেই লাল বলের ক্রিকেটে ৪,০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১০ম শতরানটিও পূর্ণ করে ফেললেন অধিনায়ক।চেন্নাইয়ের চরম ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে গিয়ে মারাত্মক শারীরিক অস্বস্তিতে পড়েন ঈশান। ব্যক্তিগত ২৫০ রানের মাথায় ডিহাইড্রেশনের কারণে তিনি 'রিটায়ার্ড হার্ট' হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে বাধ্য হন। তবে অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে পরবর্তীতে ফের ক্রিজে ফেরেন এবং রান সংখ্যাকে ২৭০-এ নিয়ে গিয়ে থামেন। লাল বলের ক্রিকেটে নিজের ফিটনেস, ক্লাস ও ধৈর্য প্রমাণ করে জাতীয় নির্বাচকদের কাছেও এটি ঈশানের এক জোরালো বার্তা।ঈশানকে যোগ্য সঙ্গ দেন পূর্বাঞ্চলের অপর শতরানকারী কুমার কুশাগ্র। ১৩২ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছয়ের সৌজন্যে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এ ছাড়া অনুকূল রায় ৪৫, কৌনাইন কুরেশি ৪০ এবং মহম্মদ শামি ব্যাটে দ্রুত ২৮ রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রানের এক বিশাল ইমারত গড়ে তোলে পূর্বাঞ্চল।১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জেতার সুবর্ণ সুযোগ এখন ঈশানদের সামনে। পাঁচ দিনের এই ফাইনাল ম্যাচে সরাসরি ফলাফল না এলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার ভিত্তিতেই চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে। ফলে ট্রফির দাবিদার হতে গেলে তিলকদের অন্তত ৭০৯ রান করতে হবে। চেন্নাইয়ের উইকেটে ইতিমধ্যে স্পিনাররা সাহায্য পেতে শুরু করায় ১৬৩ ওভারের পুরনো উইকেটে দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য এই রান তাড়া করা একপ্রকার হিমালয় ডিঙোনোর সমান।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত