কলকাতা: শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানের জনসভাকে ‘জনশূন্য’ বলে কটাক্ষ করা থেকে শুরু করে বাম-তৃণমূলের তথাকথিত 'আঁতাঁত'!
রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঁচাছোলা ভাষায় ধুয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্রেফ বিভ্রান্তিকর প্রচার বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
তিন নির্বাচন কমিশনারের একজোটে বসার ছবি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে শুভেন্দুর সাফ বক্তব্য, বিজেপির বিপুল জয় যাদের হজম হচ্ছে না, তারাই এখন আদালতের রায় ও জনগণের রায়কে অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসআইআর চলাকালীন অন্য দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি ইআরও-দের অকেজো করে দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে পোর্টাল নিয়ন্ত্রণের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়।
এই নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হতেই বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছেন। তবে শনিবারই তিন কমিশনারের একত্রে বসার ছবি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। রবিবার সেই ছবি দেখিয়েই বিরোধী শিবিরের তোপ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেন শুভেন্দু।
তিনি বলেন, "এই ছবিই প্রমাণ করে দিচ্ছে এসআইআরের সিদ্ধান্ত কারও একার ছিল না, তিন কমিশনার সর্বসম্মতভাবেই সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্বাচনে বিপুলভাবে পরাজিত হয়ে, নাম-প্রতীক হারিয়ে এখন তারা জনগণের রায়কে অসম্মান করার চক্রান্ত করছে।"
এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের নবগঠিত 'সখ্য' নিয়ে তীব্র আক্রমণ শাণান শুভেন্দু। এসআইআর ইস্যুতে সিপিএম নেতা এম এ বেবির মমতাকে চিঠি পাঠানো এবং ফোন করাকে "সিপিএম-তৃণমূলের প্রেম" বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতার মুখে ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, "যে সিপিএমের অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, ক্ষমতা হারিয়ে আজ সেই সিপিএমের পায়েই ধরেছেন মমতা।
কংগ্রেস থেকে ঘাড়ধাক্কা খেয়েছিলেন, ১৯৯৮ সালে অটলজি আশ্রয় দিয়েছিলেন। আর আজ তিনি সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। সিপিএম যেমন মহাশূন্যে বিলীন হয়ে গিয়েছে, তৃণমূলের দশাও একই হতে চলেছে।"
শ্রীরামপুরে গত শনিবার মমতার সভাকে ‘ফ্লপ শো’ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দুর দাবি, "কোর্ট ময়দানে সর্বসাকুল্যে ১৫০ জন লোক ছিল। সেখানে আমরা ১৭০ জন পুলিশ দিয়েছিলাম, আর ২০০ জন সংবাদমাধ্যমের লোক ছিল। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে আজাদি স্লোগান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।"
বিধানসভায় বিশ্ববিদ্যায় সংক্রান্ত বিলে তৃণমূলের সাথে সিপিএমের একমাত্র বিধায়কের একই সারিতে ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থেই এই দুটি দল এখন এক ছাতার তলায় এসেছে।
দুর্নীতি, আবাস যোজনা, কয়লা-বালি ও গবাদি পশু পাচারের মামলা থেকে নজর ঘোরাতেই এসআইআর নিয়ে এই নাটক তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঙ্কার, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারকেরা ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ ভুয়া নাম বাদ দিয়েছেন।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে অমান্য করে এখন নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালাচ্ছেন মমতা, কারণ তিনি আতঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত।"

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন