নন্দীগ্রাম: “সূর্য যখন মধ্যগগনে, তখন নন্দীগ্রাম মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নন্দীগ্রাম শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতবর্ষের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এক অবিস্মরণীয় নাম।”
উপনির্বাচনের পারদ চড়তেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় কর্মীসভায় এভাবেই ঐতিহাসিক আবেগ ও পরিবর্তনের সুর বেঁধে দিলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সোমবার নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড়নাকচিরাচর এবং গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তেখালিতে আয়োজিত জোড়া রাজনৈতিক কর্মীসভায় উপস্থিত হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণে নামেন তিনি।
কর্মিসভায় বক্তব্য রাখার সময় ২০০৭ সালের রক্তক্ষয়ী নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিজেপি প্রার্থী আবেগঘন সুরেই বলেন, “সালটা ২০০৭। আমরা কি কখনও ভুলতে পারব সেই রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিকথা?”
জমি রক্ষার সেই আন্দোলন যে সেদিন শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্য তথা ভারতের রাজনীতিতে পরিবর্তনের সোপান তৈরি করেছিল, সে কথা উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের স্মরণ করিয়ে দেন হাসি রানী।
তবে শুধুই ইতিহাসের স্মৃতিচারণ নয়, প্রচারে নেমেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অধিকারী পরিবারের ভূমিকাকে ঢাল করে রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট করেন এই বিজেপি প্রার্থী। প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শিশির অধিকারী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালের সেই লড়াই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছে অধিকারী পরিবার। তাঁর মতে, আন্দোলনের ইতিহাসে এই পরিবারের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
চলতি রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি আহ্বান জানান, নন্দীগ্রামের মাটি অতীতেও যেমন রাজ্যের রাজনীতিকে পথ দেখিয়েছে, এই উপনির্বাচনেও তা পরিবর্তনের দিশারী হবে। কালীচরণপুর ও তেখালির কর্মিসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই রক্তাক্ত সংগ্রামের আবেগ আর অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে পাথেয় করেই ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে বিজেপি নিজেদের প্রচারের পারদ চড়াল।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন