হাওড়া: দুর্গাপুজোর দিনকয়েক আগেই যেন গোটা বঙ্গজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অকাল দীপাবলির মেজাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক নজিরবিহীন ও আলোকময় মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মাটির প্রদীপ প্রজ্বলনের এক বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘সেবা সঙ্কল্প অভিযান’-এর আওতায় মোট ১০ লক্ষ মাটির প্রদীপ জ্বালানোর সংকল্পের অংশ হিসেবে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হাতেও প্রদীপ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ প্রদীপের জোগান সুনিশ্চিত করতে গিয়ে একপ্রকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়েছে হাওড়া জেলা প্রশাসন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব স্কুলে প্রদীপ পৌঁছে দিতে হাওড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয় গ্রামীণ এলাকার একাধিক মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সমবায় সমিতিগুলির কাঁধে। বাগনান ১ নম্বর ব্লকের কল্যাণপুর মাদার টেরেজা সেল্ফ হেল্প গ্রুপ থেকে শুরু করে সাঁকরাইল ব্লকের আন্দুল সম্পূর্ণা সেল্ফ হেল্প গ্রুপের মহিলারা দিনরাত এক করে প্রদীপ গড়ার কাজে নেমে পড়েন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত কাজ চালিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্পিত লক্ষ্যের সিংহভাগ প্রদীপ প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর ৭৬ তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশাল যজ্ঞ হাওড়ার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রটাই বদলে দিয়েছে। উৎসবের মরশুম শুরুর ঠিক আগেই হাতে এত বড় কাজের বরাত আসায় এক ধাক্কায় নগদ টাকা এসেছে শত শত মহিলার ঘরে। স্বভাবতই আনন্দ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের ঘরে ঘরে। হাওড়ার জেলা শাসক পি দীপাপ্রিয়া জানিয়েছেন, সমগ্র জেলা জুড়ে মোট ৯ লক্ষ প্রদীপ তৈরির সুনির্দিষ্ট টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। গ্রামীণ এলাকার ১১টি বিধানসভা ব্লকে ৫০ হাজার করে প্রদীপ তৈরির বরাত বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে বাগনানের কল্যাণপুর মাদার টেরেজা সিবিএসএস লিমিটেড একাই ১ লক্ষ ১৬ হাজার প্রদীপ তৈরি করে রেকর্ড গড়েছে।
স্বনির্ভর সংস্থার প্রধান ময়না মাইতি ও সাঁকরাইলের আন্দুল সম্পূর্ণা পিবিএসএস-এর কর্ত্রী মধুমিতা শী জানান, সরকারি এই বরাতের ফলে গ্রামীণ মহিলারা অর্থনৈতিকভাবে দারুণ লাভবান হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে নিজেদের হাতে তৈরি প্রদীপ রাজ্যজুড়ে জ্বলে উঠবে— এই ভাবনা যেমন তাঁদের গর্বিত করেছে, তেমনই পুজোর মুখে উপার্জনের এই সুযোগ তাঁদের পরিবারে এনে দিয়েছে বাঁধভাঙা আনন্দ। বছরভর এমন কাজের বরাত পেলে গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভিত আরও মজবুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন