দুবাই: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা রোখাতো দূর, নিজের জীবন বাঁচাতে চরম মূল্য দিতে হলো ৩৯ বছর বয়সী ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। ককপিটে ওমানি জেহাদি সহ-পাইলটের ধারালো কুড়াল ও ছুরির উপরিউপরে কোপে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি। রক্তে ভেসে যায় ককপিট। এবার সামনে এলো সেই রোমহর্ষক সত্য—হামলার জেরে ভারতীয় পাইলট স্মিতের মাথার খুলির একাংশ সম্পূর্ণ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে মস্তিষ্কের গভীরে ঢুকে গিয়েছিল!
চিকিৎসক সূত্রে খবর, আরব আমিরশাহীতে স্থানান্তরিত করার আগেই পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় সৌদি আরবে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর জটিল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার চালানো হয়। ভেঙে যাওয়া খুলি পুনর্গঠন করে তা বের করেন চিকিৎসকরা। তাঁর হাত, পা, বুক ও পেটে অসংখ্য গভীর ক্ষত থাকলেও আমিরশাহীর সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড় দিচ্ছেন। এই প্রাণঘাতী ঘটনার পর দেশজুড়ে হিরোর মর্যাদা পাওয়া পাইলটের সঙ্গে সোজাসুজি ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেতেই আবেগে কেঁদে ফেলেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত। মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনার অসীম সাহসিকতায় পুরো দেশ গর্বিত। যখনই যা প্রয়োজন মনে করবেন, স্রেফ একটা ফোন করবেন।”
কথোপকথনে স্মিত জানান, বিপদের মুহূর্তে তিনি সবসময়েই হনুমান চালিশা পাঠ করেন। গত বুধবারের সেই রক্তঝরা মুহূর্তেও তিনি মনে মনে ঈশ্বরকেই ডেকেছিলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মিতের মা তাঁকে গীতার মূল্যবোধে বড় করেছেন বলেই আজ শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভারতীয়রা অন্য কারোর প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং অপরের জীবন রক্ষা করতে নিজেদের জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করে না। হাসপাতালে পরিবারের মানুষদের উপস্থিতিতে বর্তমানে স্মিতের শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ককপিটে মৃত্যুবাণ রুখে দেওয়া এই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দ্রুত আরোগ্য কামনায় এখন প্রার্থনায় মগ্ন গোটা দেশ।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন