Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Fly Dubai Heroes: ককপিটে মৃত্যুবাণ রুখে মনে করালেন নীরজাকে! ৪ যাত্রীকে নিয়ে কীভাবে অসাধ্য সাধন করলেন পাইলট স্মিত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
Fly Dubai Heroes: ককপিটে মৃত্যুবাণ রুখে মনে করালেন নীরজাকে! ৪ যাত্রীকে নিয়ে কীভাবে অসাধ্য সাধন করলেন পাইলট স্মিত?
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি

তেল আভিভ: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই এফ জেড ১০৭৩’ বিমানের আকাশে তখন চরম আতঙ্কের ছায়া। ওমানি সহ-পাইলট হঠাৎই হিংস্র হয়ে উঠে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ড্যাশবোর্ড ও কন্ট্রোল ধ্বংসের চেষ্টাও চালান তিনি। কিন্তু অসীম সাহসী ক্যাপ্টেন মচ্ছর রক্তে ভেসে যাওয়ার মধ্যেও অচৈতন্য হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে লক করা ককপিটের দরজাটি খুলে দেন। তাঁর সেই সময়োচিত বুদ্ধিমত্তাই উন্মাদের চরম চক্রান্ত থেকে বিমানটিকে রক্ষা করে, যা স্বাভাবিকভাবেই চার দশক আগে করাচি বিমানবন্দরে হাইজ্যাক হওয়া পান আম বিমানের নির্ভীক বিমানসেবিকা নীরজা ভানোটের বীরত্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ককপিটের দরজা খুলতেই কায়দা করে অকুতোভয় কয়েকজন যাত্রী ভিতরে ঢুকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন, ব্যাংকার জভিকা মানেস, আসাফ রাজুয়ান এবং ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক শোতা মোসায়েভ। ইয়ানিভ ককপিটে ঢুকে টিভি শো 'মেডে' দেখে শেখা কৌশল কাজে লাগিয়ে বিমানের গতি স্বাভাবিক করেন। একই সঙ্গে বিশাল শক্তিশালী হামলাকারীকে সামলাতে অন্য যাত্রীরা হেডফোনের তার দিয়ে তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং প্রায় ৫০ মিনিট চেপে রাখেন। অন্যদিকে ককপিটের মেঝেতে প্রায় ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা স্মিত মচ্ছরের ক্ষতস্থানে জরুরি চিকিৎসা চালিয়ে তাঁর অনবরত রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন চিকিৎসক শোতা। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের তৎপরতায় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়।

এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি বহু বছর আগের এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিকে ফের চোখের সামনে তুলে এনেছে। ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর করাচিতে পান আম ফ্লাইট ৭৩ ছিনতাইয়ের সময় ২২ বছরের তরুণী নীরজা ভানোট নিজের জীবন তুচ্ছ করে যাত্রীদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। নিজের প্রাণরক্ষার সুযোগ থাকলেও তিনি ৩৭৯ জন যাত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমানের জরুরি দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

নীরজা ও স্মিত— দু’জনের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও তাঁদের দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার বার্তা একই সুতোয় বাঁধা। চরম মুহূর্তে নিজের জীবন বিপন্ন করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এই অসামান্য নজির বিশ্বজুড়ে বন্দিত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ গোটা বিশ্বের মানুষ স্মিত মচ্ছর ও সেই চার সাহসী যাত্রীর অকুতোভয় পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।


বিষয় : HiddenStoriesNews SmitMachhar MidAirHorror AviationBravery NeerjaBhanot FlyDubaiHeroes TrueHeroes IsraelDubaiFlight AviationHistory

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


Fly Dubai Heroes: ককপিটে মৃত্যুবাণ রুখে মনে করালেন নীরজাকে! ৪ যাত্রীকে নিয়ে কীভাবে অসাধ্য সাধন করলেন পাইলট স্মিত?

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
তেল আভিভ: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই এফ জেড ১০৭৩’ বিমানের আকাশে তখন চরম আতঙ্কের ছায়া। ওমানি সহ-পাইলট হঠাৎই হিংস্র হয়ে উঠে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ড্যাশবোর্ড ও কন্ট্রোল ধ্বংসের চেষ্টাও চালান তিনি। কিন্তু অসীম সাহসী ক্যাপ্টেন মচ্ছর রক্তে ভেসে যাওয়ার মধ্যেও অচৈতন্য হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে লক করা ককপিটের দরজাটি খুলে দেন। তাঁর সেই সময়োচিত বুদ্ধিমত্তাই উন্মাদের চরম চক্রান্ত থেকে বিমানটিকে রক্ষা করে, যা স্বাভাবিকভাবেই চার দশক আগে করাচি বিমানবন্দরে হাইজ্যাক হওয়া পান আম বিমানের নির্ভীক বিমানসেবিকা নীরজা ভানোটের বীরত্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।ককপিটের দরজা খুলতেই কায়দা করে অকুতোভয় কয়েকজন যাত্রী ভিতরে ঢুকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন, ব্যাংকার জভিকা মানেস, আসাফ রাজুয়ান এবং ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক শোতা মোসায়েভ। ইয়ানিভ ককপিটে ঢুকে টিভি শো 'মেডে' দেখে শেখা কৌশল কাজে লাগিয়ে বিমানের গতি স্বাভাবিক করেন। একই সঙ্গে বিশাল শক্তিশালী হামলাকারীকে সামলাতে অন্য যাত্রীরা হেডফোনের তার দিয়ে তাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং প্রায় ৫০ মিনিট চেপে রাখেন। অন্যদিকে ককপিটের মেঝেতে প্রায় ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা স্মিত মচ্ছরের ক্ষতস্থানে জরুরি চিকিৎসা চালিয়ে তাঁর অনবরত রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন চিকিৎসক শোতা। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের তৎপরতায় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়।এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি বহু বছর আগের এক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিকে ফের চোখের সামনে তুলে এনেছে। ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর করাচিতে পান আম ফ্লাইট ৭৩ ছিনতাইয়ের সময় ২২ বছরের তরুণী নীরজা ভানোট নিজের জীবন তুচ্ছ করে যাত্রীদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। নিজের প্রাণরক্ষার সুযোগ থাকলেও তিনি ৩৭৯ জন যাত্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমানের জরুরি দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।নীরজা ও স্মিত— দু’জনের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও তাঁদের দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার বার্তা একই সুতোয় বাঁধা। চরম মুহূর্তে নিজের জীবন বিপন্ন করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এই অসামান্য নজির বিশ্বজুড়ে বন্দিত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-সহ গোটা বিশ্বের মানুষ স্মিত মচ্ছর ও সেই চার সাহসী যাত্রীর অকুতোভয় পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত