Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

India Bangladesh: চিনের ফাঁদে পড়ে মাথায় হাত বাংলাদেশের? এক ঝটকায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
India Bangladesh: চিনের ফাঁদে পড়ে মাথায় হাত বাংলাদেশের? এক ঝটকায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প!
ফের পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বহুচর্চিত তিস্তা প্রকল্প। ফাইল ছবি

ঢাকা: বহু প্রতিক্ষীত তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে ঘিরে প্রতিবেশী বাংলাদেশে বড়সড় ধাক্কা। মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সব জল্পনায় জল ঢেলে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বিশাল ব্যয়ে এই নতুন সমীক্ষা চালানো হবে। আর এই সমীক্ষাই শেষ হতে লেগে যাবে ২০২৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। ফলে যার জের ধরে প্রকল্পের মূল ভিত্তিপ্রস্তর ও মূল নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের আগে শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকছে না। ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নের প্রকল্প আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে এসে দাঁড়াল।

চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের যাবতীয় চূড়ান্ত অনুমোদন সেরে ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রক। কিন্তু রাতারাতি সরকারের নীতি বদলে পুরো সমীকরণ ও সময়সূচি উল্টে গেল। জানা গিয়েছে, নতুন প্রস্তাবিত এই সমীক্ষায় তিস্তা নদীর হাইড্রোলজিক্যাল, মরফোলজিক্যাল, পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন জটিল দিক গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে নীলফামারি, লালমণির হাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তৃত তিস্তা নদীর অববাহিকা এবং তার শাখা নদীগুলোকে এই গবেষণার আওতায় আনা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, পলি ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং, ক্যানেলাইজেশন এবং জল সংরক্ষণের মতো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল যাচাই করতেই এই সমীক্ষার আয়োজন।

রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিক দিয়ে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্পের রূপায়ণের ভার ভারতকে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে চিনে যান এবং বেজিংয়ের সাথে কৌশলগত আলোচনা সেরে প্রকল্পটির দায়িত্ব চিনের হাতে তুলে দেন। আর চিনা সংযোগ স্পষ্ট হতেই দেখা গেল অবিশ্বাস্যভাবে দীর্ঘায়িত হয়ে গেল গোটা প্রকল্পের কাজ।

প্রকল্পটি নিয়ে এই বিপুল বিলম্ব এবং একের পর এক সমীক্ষার নামে সময় নষ্টের ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি চিনের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্প শেষ পর্যন্ত লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ল? চিনের সহযোগিতায় কাজ কত দ্রুত এগোবে, নাকি সমীক্ষার চক্রবূহ্যেই থমকে থাকবে, সেই চিন্তায় তিস্তাপাড়ের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।


বিষয় : BangladeshPolitics TarekRahmanGovt HiddenStoriesNews TEESTAPROJECT BreakingNewsBangladesh TEESTARIVER IndiaBangladesh ChinaBangladesh GeopoliticsNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


India Bangladesh: চিনের ফাঁদে পড়ে মাথায় হাত বাংলাদেশের? এক ঝটকায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প!

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ঢাকা: বহু প্রতিক্ষীত তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে ঘিরে প্রতিবেশী বাংলাদেশে বড়সড় ধাক্কা। মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সব জল্পনায় জল ঢেলে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বিশাল ব্যয়ে এই নতুন সমীক্ষা চালানো হবে। আর এই সমীক্ষাই শেষ হতে লেগে যাবে ২০২৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। ফলে যার জের ধরে প্রকল্পের মূল ভিত্তিপ্রস্তর ও মূল নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের আগে শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকছে না। ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নের প্রকল্প আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে এসে দাঁড়াল।চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের যাবতীয় চূড়ান্ত অনুমোদন সেরে ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রক। কিন্তু রাতারাতি সরকারের নীতি বদলে পুরো সমীকরণ ও সময়সূচি উল্টে গেল। জানা গিয়েছে, নতুন প্রস্তাবিত এই সমীক্ষায় তিস্তা নদীর হাইড্রোলজিক্যাল, মরফোলজিক্যাল, পরিবেশগত ও আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন জটিল দিক গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে নীলফামারি, লালমণির হাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তৃত তিস্তা নদীর অববাহিকা এবং তার শাখা নদীগুলোকে এই গবেষণার আওতায় আনা হচ্ছে। নদীভাঙন রোধ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, পলি ব্যবস্থাপনা, ড্রেজিং, ক্যানেলাইজেশন এবং জল সংরক্ষণের মতো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল যাচাই করতেই এই সমীক্ষার আয়োজন।রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিক দিয়ে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্পের রূপায়ণের ভার ভারতকে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে চিনে যান এবং বেজিংয়ের সাথে কৌশলগত আলোচনা সেরে প্রকল্পটির দায়িত্ব চিনের হাতে তুলে দেন। আর চিনা সংযোগ স্পষ্ট হতেই দেখা গেল অবিশ্বাস্যভাবে দীর্ঘায়িত হয়ে গেল গোটা প্রকল্পের কাজ।প্রকল্পটি নিয়ে এই বিপুল বিলম্ব এবং একের পর এক সমীক্ষার নামে সময় নষ্টের ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি চিনের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্প শেষ পর্যন্ত লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ল? চিনের সহযোগিতায় কাজ কত দ্রুত এগোবে, নাকি সমীক্ষার চক্রবূহ্যেই থমকে থাকবে, সেই চিন্তায় তিস্তাপাড়ের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত