কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর সেমিনার হল সংলগ্ন শৌচাগার রাতারাতি ভেঙে ফেলা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, এবার তাতে যোগ হলো নতুন মাত্রা। কেন এখনও পদে বহাল রয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম—শুক্রবার আরজি করে আয়োজিত এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্মেলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনেই সরাসরি এই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দিলেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। পাশাপাশি সিবিআইয়ের স্টেটাস রিপোর্টের নথি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, শৌচাগার ভাঙা ও প্রমাণ লোপাটের নির্দেশের নেপথ্যে খোদ স্বাস্থ্যসচিব যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সত্যতা প্রমাণিত হলে অবিলম্বে নারায়ণস্বরূপ নিগমকে পদ থেকে বদলি করা হবে।
সম্মেলনে নিজের মেয়ের নির্মম পরিণতির কথা স্মরণ করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সন্তানহারা বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময়ও তাঁর মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি। ঘটনার পর আন্দোলনের মুখে পুলিশে রদবদল হলেও স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান মাথার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যদপ্তরের কয়েকজন প্রভাবশালী মাথা সাসপেন্ড না হলে এবং উপযুক্ত শাস্তি না পেলে দপ্তর দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পাবে না।” এমনকি ২০২৪ সালের ১৪ই আগস্টের ভাঙচুরের পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এখনও মেরামত না হলেও, অকুস্থলের পাশের শৌচাগারটি কোন স্বার্থে রাতারাতি সংস্কার করা হলো, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
মায়ের আবেগঘন ও বিস্ফোরক অভিযোগ শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, হাসপাতালের রূপরেখা ও মেরামতের এক্তিয়ার মূলত পূর্তদপ্তরের (PWD)। সেক্ষেত্রে তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব পূর্তদপ্তরকে সেমিনার হলের পাশের শৌচাগার ভাঙার কোনো লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললেই নিগমকে সরানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পরই আমরা একাধিক আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছি এবং আগের আটকে থাকা সব ফাইল ক্লিয়ার করেছি। আরজি করের এমার্জেন্সি বিল্ডিং পুনর্নির্মাণের জন্য হাই কোর্টের অনুমোদন দরকার, তবে অভয়াকে ন্যায়বিচার দিতে আইনের সর্বোচ্চ সীমানা পর্যন্ত লড়াই করবে রাজ্য সরকার।”

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন