Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

India Bangladesh: ব্রিকস বৈঠক বয়কট করেও হঠাৎ ভারত নিয়ে আগ্রহী তারেক রহমান! গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি ঘিরেই কি তবে চরম মাস্টারস্ট্রোক ঢাকার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
India Bangladesh: ব্রিকস বৈঠক বয়কট করেও হঠাৎ ভারত নিয়ে আগ্রহী  তারেক রহমান! গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি ঘিরেই কি তবে চরম মাস্টারস্ট্রোক ঢাকার?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল চিত্র

নয়াদিল্লি: ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ যোগ দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক মঞ্চ এড়িয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারতকে কোনোভাবেই পাশ কাটাতে চাইছে না ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত সফরে আসতে মরিয়া তারেক রহমান। তবে কেবল আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়, এই সফরের আগে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা ‘এজেন্ডা’ তৈরি করে দিল্লি থেকে ঠিক কী কী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং তা কীভাবে নিজের দেশের মানুষের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়—তা নিয়েই এখন ঢাকায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ঢাকার শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক অবদান বাংলাদেশ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করে। তাই ব্রিকসে অনুপস্থিতির অর্থ কখনোই ভারতকে দূরত্বে ঠেলে দেওয়া নয়। উল্টে দ্রুত দিল্লি সফরের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরেই। ফলে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটির দ্রুত নবীকরণ সেরে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার মতে, গত তিন দশক ধরে এই চুক্তি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে, তাই নতুন করে এটি বলবৎ করার ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আশাবাদী। জলচুক্তির পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অচলাবস্থা দূর করতে দুই দেশের আমলাস্তরে প্রস্তুতি বৈঠকও শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণ নিয়ে ভারতের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এই চুক্তি কার্যকর থাকার ফলে বিহারের জলসেচ ও কৃষিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন এনডিএ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছেন, চুক্তির নবীকরণ সংক্রান্ত যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের স্বার্থকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও সীমান্ত কূটনীতির এই জটিল সমীকরণের মাঝে তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কে কতটা বরফ গলাতে পারে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BreakingNews Diplomacy TariqueRahman SJAISHANKAR HiddenStoriesNews brics2026 gangawatertreaty IndiaBangladesh DelhiVisit

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


India Bangladesh: ব্রিকস বৈঠক বয়কট করেও হঠাৎ ভারত নিয়ে আগ্রহী তারেক রহমান! গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি ঘিরেই কি তবে চরম মাস্টারস্ট্রোক ঢাকার?

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ যোগ দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক মঞ্চ এড়িয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারতকে কোনোভাবেই পাশ কাটাতে চাইছে না ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত সফরে আসতে মরিয়া তারেক রহমান। তবে কেবল আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়, এই সফরের আগে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা ‘এজেন্ডা’ তৈরি করে দিল্লি থেকে ঠিক কী কী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব এবং তা কীভাবে নিজের দেশের মানুষের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়—তা নিয়েই এখন ঢাকায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।ঢাকার শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক অবদান বাংলাদেশ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণ করে। তাই ব্রিকসে অনুপস্থিতির অর্থ কখনোই ভারতকে দূরত্বে ঠেলে দেওয়া নয়। উল্টে দ্রুত দিল্লি সফরের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরেই। ফলে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটির দ্রুত নবীকরণ সেরে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার মতে, গত তিন দশক ধরে এই চুক্তি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে, তাই নতুন করে এটি বলবৎ করার ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আশাবাদী। জলচুক্তির পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অচলাবস্থা দূর করতে দুই দেশের আমলাস্তরে প্রস্তুতি বৈঠকও শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।তবে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণ নিয়ে ভারতের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এই চুক্তি কার্যকর থাকার ফলে বিহারের জলসেচ ও কৃষিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছেন এনডিএ জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি চিঠি পাঠিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছেন, চুক্তির নবীকরণ সংক্রান্ত যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিহারের স্বার্থকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও সীমান্ত কূটনীতির এই জটিল সমীকরণের মাঝে তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কে কতটা বরফ গলাতে পারে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত