Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সাড়ে তিন মাসের লুকোচুরি শেষ, সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার বালিগঞ্জের ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু!

সাড়ে তিন মাসের লুকোচুরি শেষ, সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার বালিগঞ্জের ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু!
ইডির হাতে গ্রেফতার বালিগঞ্জের ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু। ছবি-সংগৃহীত

কলকাতা: দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ইঁদুর-বেড়াল খেলার পর অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো বালিগঞ্জের বিতর্কিত চরিত্র সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একের পর এক সমন এড়িয়ে সোমবার সকালে হঠাৎই সিজিও কমপ্লেক্সে নিজে থেকে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হলো না। দীর্ঘ সাড়ে দশ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় সোমবার রাতেই ইডির আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করেন। জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের মতো একাধিক গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সোনা পাপ্পু। যদিও সোমবার সকালে ইডি দফতরে ঢোকার মুখে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো দোষ করেননি, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো থানায় আজ পর্যন্ত একটাও তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তাঁর সেই সমস্ত দাবি ধোপে টেকেনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে।

সোনা পাপ্পু প্রথম রাজ্য রাজনীতি ও সংবাদ শিরোনামে আসেন গত ১ ফেব্রুয়ারি। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড যেভাবে তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চলেছিল, তারপর থেকেই তাঁর নাম জড়ায়। কলকাতা পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজলেও সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর কোনো টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, ফেরার থাকা অবস্থাতেও মাঝে মধ্যেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্য রাখছিলেন এই অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়া এলাকার এই প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে রাজাবাজার ও কলকাতা পুরসভার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ একাধিক শাসকদলের শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ ছবিও সামনে এসেছিল, যা নিয়ে কম রাজনৈতিক তরজা হয়নি।

তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, দক্ষিণ কলকাতায় সিন্ডিকেট রাজ, বেআইনি নির্মাণ এবং কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির নেপথ্যে মূল মাথা ছিলেন এই সোনা পাপ্পুই। পাপ্পু নিজে ফেরার থাকলেও ইডি কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে ছিল না। তদন্তের স্বার্থে এর আগেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এরপরই ইডির জালে ধরা পড়েন কলকাতা পুলিশের এক প্রভাবশালী আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এই পুলিশকর্তার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর গভীর অর্থনৈতিক লেনদেন ও ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জোরালো অভিযোগ ওঠে। ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী পুলিশকর্তা গ্রেফতার হতেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বালিগঞ্জের এই 'ডন'। সোমবার ইডি দফতরে সশরীরে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার শেষ চেষ্টা করলেও, মঙ্গলবার সকালের আলো ফুটল ইডির লকআপেই। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।



হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : KOLKATACRIME sonapappu EnforcementDirectorate EDArrest BiswajitPoddar

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সাড়ে তিন মাসের লুকোচুরি শেষ, সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার বালিগঞ্জের ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু!

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ইঁদুর-বেড়াল খেলার পর অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো বালিগঞ্জের বিতর্কিত চরিত্র সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একের পর এক সমন এড়িয়ে সোমবার সকালে হঠাৎই সিজিও কমপ্লেক্সে নিজে থেকে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হলো না। দীর্ঘ সাড়ে দশ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় সোমবার রাতেই ইডির আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করেন। জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের মতো একাধিক গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সোনা পাপ্পু। যদিও সোমবার সকালে ইডি দফতরে ঢোকার মুখে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো দোষ করেননি, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো থানায় আজ পর্যন্ত একটাও তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তাঁর সেই সমস্ত দাবি ধোপে টেকেনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে।সোনা পাপ্পু প্রথম রাজ্য রাজনীতি ও সংবাদ শিরোনামে আসেন গত ১ ফেব্রুয়ারি। এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোড যেভাবে তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চলেছিল, তারপর থেকেই তাঁর নাম জড়ায়। কলকাতা পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজলেও সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর কোনো টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, ফেরার থাকা অবস্থাতেও মাঝে মধ্যেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্য রাখছিলেন এই অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়া এলাকার এই প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে রাজাবাজার ও কলকাতা পুরসভার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ একাধিক শাসকদলের শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ ছবিও সামনে এসেছিল, যা নিয়ে কম রাজনৈতিক তরজা হয়নি।তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, দক্ষিণ কলকাতায় সিন্ডিকেট রাজ, বেআইনি নির্মাণ এবং কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির নেপথ্যে মূল মাথা ছিলেন এই সোনা পাপ্পুই। পাপ্পু নিজে ফেরার থাকলেও ইডি কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে ছিল না। তদন্তের স্বার্থে এর আগেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এরপরই ইডির জালে ধরা পড়েন কলকাতা পুলিশের এক প্রভাবশালী আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এই পুলিশকর্তার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর গভীর অর্থনৈতিক লেনদেন ও ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জোরালো অভিযোগ ওঠে। ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী পুলিশকর্তা গ্রেফতার হতেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বালিগঞ্জের এই 'ডন'। সোমবার ইডি দফতরে সশরীরে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার শেষ চেষ্টা করলেও, মঙ্গলবার সকালের আলো ফুটল ইডির লকআপেই। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার