লখনউ: ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন অখিলেশ যাদব। মাত্র তিনমাস আগে যে ভোটকুশলী সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা আই-প্যাকের (I-PAC) সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন তিনি, বুধবার হঠাৎই সেই চুক্তি ভেঙে দেওয়ার কথা জানালেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। উত্তরপ্রদেশের মসনদ পুনর্দখলের লড়াইয়ে যখন অখিলেশ ও যোগী আদিত্যনাথের দ্বৈরথ তুঙ্গে, তখন এই পদক্ষেপে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আই-প্যাকের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করার কারণ হিসাবে অখিলেশ যাদব সরাসরি জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এখন পর্যাপ্ত তহবিল বা ফান্ডের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, “তারা কিছুদিন আমাদের জন্য কাজ করছিল। কিন্তু, এখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই।” তবে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই যুক্তি পুরোপুরি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং ডিএমকের শোচনীয় পরাজয়ের পরই হুঁশ ফিরেছে অখিলেশের। আই-প্যাকের পরামর্শে লড়েও যেভাবে দুই রাজ্যের শাসকদল মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই সমাজবাদী পার্টি প্রধানকে এই চরম সিদ্ধান্তে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৭-এর গোড়ায় উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। লখনউয়ের মসনদ দখলে রাখতে মরিয়া বিজেপি, আর লোকসভার সাফল্যের ধারা বজায় রেখে যোগীকে গদিচ্যুত করতে চান অখিলেশ। আই-প্যাকের সঙ্গে চুক্তি ভাঙলেও ‘শোটাইম’ নামে অন্য একটি সংস্থা এখনও সমাজবাদী পার্টির প্রচার-কৌশলের কাজ সামলাচ্ছে। যদিও অখিলেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বা তামিলনাড়ুর ফলাফলের সঙ্গে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
আই-প্যাকের পরামর্শ ছাড়াই কি তবে ২০২৭-এর নির্বাচনে লড়বেন অখিলেশ? আই-প্যাক সাধারণত বুথস্তর থেকে শুরু করে প্রার্থীর মনোনয়ন পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু, বাংলা ও তামিলনাড়ুর পর উত্তরপ্রদেশ থেকেও এই সংস্থার বিদায় কি তবে ভারতীয় রাজনীতিতে ‘ভোটকুশলী সংস্থা’গুলির গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত? জল্পনা এখন তুঙ্গে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন