ঢাকা: বাংলাদেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে না গিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে পুনর্গঠনের পথেই এগোতে চাইছে দলটি।
দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন—এই চার স্তরকে ঘিরেই মূল পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন সক্রিয় করা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুত রাখার কথাও আলোচনায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
সম্প্রতি দলের সভাপতি শেখ হাসিনা একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই বৈঠকে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করা, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পরিধি যথেষ্ট বড়। দেশে রয়েছে প্রায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, প্রায় ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির বেশি পৌরসভা এবং প্রায় ৪,৫০০টি ইউনিয়ন পরিষদ। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিস্তৃত নির্বাচনী কাঠামো দলগুলোর জন্য সংগঠন পুনর্গঠনের একটি বড় ক্ষেত্র তৈরি করে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগপন্থী প্রার্থীরা কিছু সাফল্য পেয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে—
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতিতে ১৭টির মধ্যে ৭টি পদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সভাপতিসহ প্রায় ১০টি পদ
নোয়াখালীতে ৯টি পদ
লক্ষ্মীপুরে ৮টি পদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি পদ
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এসব ফলাফলকে দলের ভেতরে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের “পরীক্ষামূলক রাজনৈতিক মঞ্চ” হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দলটির সংগঠন কতটা সক্রিয় এবং সমর্থন কতটা রয়েছে, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, স্থানীয় স্তরে কিছু সাফল্য মিললেও জাতীয় রাজনীতিতে শক্তভাবে প্রত্যাবর্তন সহজ হবে না। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির অনেক নেতা এখনও প্রকাশ্যে সক্রিয় নন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের বহু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন