কলকাতা: বাজারে মাছ ও মাংসের আকাশছোঁয়া দামে যখন সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেট পুড়ছে, ঠিক তখনই এক অভিনব রাজকীয় ভোজের সাক্ষী হচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। এখানকার খাঁচাবন্দি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও আফ্রিকান সিংহদের পাতে এখন রোজ দু’বেলা নিয়ম করে পড়ছে দেদার খাসির মাংস। তবে এই এলাহি আয়োজন শখে নয়, বরং চরম প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতায়। কলকাতা পুরসভার কসাইখানার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ সংক্রান্ত জটের জেরে চিড়িয়াখানায় মোষের মাংস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। খাঁচার হিংস্র আবাসিকদের তো আর উপোস করিয়ে রাখা যায় না, তাই বাধ্য হয়েই সমপরিমাণ কিন্তু বাজারে বহুগুণ বেশি দামের পাঁঠার মাংস কিনতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। আর এর ফলেই এক ধাক্কায় দৈনিক খরচের বহর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে নাজেহাল অবস্থা আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।
রাতের অন্ধকারে নির্মল ঘোষের বাড়িতে বোমা হামলার অভিযোগ, চাঞ্চল্য পানিহাটিতে
চিড়িয়াখানার এই নজিরবিহীন খাদ্যসংকট ও বিপুল আর্থিক ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি অরণ্য ভবনে চিড়িয়াখানার আবাসিকদের খাদ্য সরবরাহকারী ভেন্ডরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। চিড়িয়াখানার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বনমন্ত্রী সরাসরি ভেন্ডরদের সঙ্গে এই স্তরের বৈঠকে বসলেন। বৈঠক শেষে বনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুরসভার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হওয়ার কারণে মাংস সরবরাহকারীরা কসাইখানা থেকে মোষ কাটাতে পারছেন না। তবে জট না মেটা পর্যন্ত বাঘ-সিংহদের খাবারে কোনওরকম ঘাটতি বা আপস করা চলবে না। আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত এই অগ্নিমূল্য খাসির মাংসই সরবরাহ করা হবে এবং পুরসভার সঙ্গে কথা বলে এই প্রশাসনিক জট দ্রুত কাটানোর চেষ্টা চলছে।
বার্ষিক দরপত্রের সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে চিড়িয়াখানার এই আর্থিক রক্তক্ষরণের ভয়ংকর চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে যায়। আলিপুর চিড়িয়াখানায় বছরে গড়ে প্রায় ৫১ হাজার কেজি মোষের মাংসের প্রয়োজন হয়, যার বাজারমূল্য হাড় ছাড়া প্রতি কেজি মাত্র ৩৫০ টাকা এবং হাড়-সহ ২৭০ টাকা। পাশাপাশি বছরে মোষের কিমা লাগে ২৮০০ কেজি, যার প্রতি কেজির দাম মাত্র ২৮৫ টাকা। অন্যদিকে, চিড়িয়াখানায় স্বাভাবিক সময়ে বছরে পাঁঠার মাংস লাগত মাত্র ৯৮০ কেজি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মোষের বদলে যে পাঁঠার মাংস দেওয়া হচ্ছে, তার হাড় ছাড়া প্রতি কেজির দাম ৭২৮ টাকা এবং হাড়-সহ ৬৯৫ টাকা। এমনকি মাটন কিমার দাম ঠেকেছে প্রতি কেজি ৭২৬ টাকায়। ফলে ৩৫০ টাকার মোষের মাংসের জায়গায় ৭২৮ টাকার খাসির মাংস দেওয়ায় চিড়িয়াখানার বাজেট এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
সামসেরগঞ্জে পুলিশের বড় সাফল্য, ১০০ গ্রাম হেরোইন সহ গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত
মূলত কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত পুরসভার মূল কসাইখানা থেকে মোষ কাটিয়ে সেই তাজা মাংস চিড়িয়াখানায় সরবরাহ করত নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিধানসভা ভোটের পর থেকেই রহস্যজনকভাবে সেখানে মোষ ও গরু কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলির লাইসেন্সও পুরসভার পক্ষ থেকে পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অচলাবস্থা কাটানো নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট সময়সীমা বা বার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনিক গোলযোগের জেরে সরকারের কোষাগার খালি হলেও, আপাতত খাঁচায় বসে রোজ ৭২৮ টাকা কেজির তুলতুলে খাসির মাংস দু’বেলা চেটেপুটে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে আলিপুরের রয়্যাল বেঙ্গল থেকে শুরু করে বনের রাজারা।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন