হুগলি: পরিবর্তনের বাংলায় এবার শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন তৎপরতা ও রাজকীয় আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্যবাসী। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের হাত ধরে এবারই প্রথম এই ঐতিহাসিক মেলাকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বর এবং শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে লাখো লাখো শিবভক্তের যে আবেগ ও ভক্তি জড়িয়ে রয়েছে, তাকে সম্মান জানাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশিকায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হুগলি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যান চলাচলে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু করেছে। বিপুল ভক্তসমাগমের জেরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ‘নো এন্ট্রি’ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সচল রাখতে বিকল্প রাস্তারও সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে। সবথেকে বড় চমক হিসেবে, এবার প্রতি সোমবার তারকেশ্বরে আসা ভক্তদের মাথায় আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার এই বিশাল আয়োজনের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে রবিবারই হেলিকপ্টারে গোটা তারকেশ্বর এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এবারের মেলায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে পুণ্যার্থীদের সমাগম হতে পারে। সেই কারণে জল ও স্থল— উভয় পথেই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের স্নানের সুবিধার্থে গঙ্গার ১৪টি ঘাটে বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর একটি করে ২৪ ঘণ্টার সক্রিয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য মজুত থাকছে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স এবং গঙ্গায় যে কোনও দুর্ঘটনা রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স। গোটা রাস্তাজুড়ে পুলিশের কড়া নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন থাকবে। মেলার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর রোড সংস্কার করে রাস্তার দু’ধারে ডাস্টবিন বসানো হয়েছে এবং পুলিশি নজরদারির জন্য তৈরি করা হয়েছে একাধিক সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এমনকি ভক্তদের সুবিধার্থে পূর্ব রেলের তরফে ইতিমধ্যেই বাড়তি স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
স্টেশন রোডে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙার নোটিশ, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
জুলাই এবং আগস্ট মাসজুড়ে শ্রাবণী মেলার এই ভিড় সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন দিনগুলিকে মূলত শনি ও রবিবারকে কেন্দ্র করে ছ’টি নির্দিষ্ট পর্বে ভাগ করেছে। প্রথম পর্বটি ১৪ থেকে ২০ জুলাই এবং শেষ পর্বটি ২২ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই দিনগুলিতে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর রোড, দিল্লি রোড, দীর্ঘাঙ্গী মোড়, শ্বেতপুর মোড়, বিঘাটি মোড় এবং পিয়ারাপুর-সহ চন্দননগর ও শ্রীরামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় অটো, টোটো ও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে ডালহৌসি জুটমিল, মঞ্জুশ্রী ও বাঘখাল পর্যন্ত ‘নো এন্ট্রি’ কার্যকর থাকবে। তবে আপদকালীন জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুল্যান্স বা দুধের গাড়ি এই রুটগুলিতে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতে কোনও ভোগান্তি না হয়, তার জন্য চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় বিকল্প রুট হিসেবে পালপাড়া রোড, বিঘাটি মোড় ও দিল্লি রোড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শ্রীরামপুর ও রিষড়া থানা এলাকার বাসিন্দারা অমূল্যকানন, প্রভাসনগর এবং ৪ নম্বর রেল গেটের রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে, উত্তরপাড়া থানা এলাকার জন্য বিশালাক্ষ্মী মোড় ও সুধীর ঘাটের রাস্তা বিকল্প হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে। গাইড ম্যাপ দেখে পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন