Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

শিশুতারকা থেকে কর্পোরেট, মাস্টার রবির রোমাঞ্চকর জীবনের ‘সেকেন্ড ইনিংস’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিশুতারকা থেকে কর্পোরেট, মাস্টার রবির রোমাঞ্চকর জীবনের ‘সেকেন্ড ইনিংস’!
তখনকার জুনিয়র অমিতাভ। আজকের রবি ভালেচা। ছবি : সংগৃহীত

মুম্বই : সিনেমার রুপোলি পর্দা আর গ্ল্যামারের আলো কাকাকে না টানে?

কিন্তু সেই আলোর বৃত্ত থেকে হেঁটে বেরিয়ে একদম নতুন পরিচয় তৈরি করা? গল্পটা ঠিক সেখানেই রূপকথা হয়ে ওঠে। চশমা জোড়া চোখে আজ তিনি একজন কেতাদুরস্ত কর্পোরেট লিডার, কিন্তু আশির দশকের পর্দায় তিনিই ছিলেন ‘জুনিয়র অমিতাভ বচ্চন’। নাম রবি ভালেচা—সিনেমা প্রেমীদের কাছে যিনি চিরকালের ‘মাস্টার রবি’। চার বছর বয়সে যার পথচলা শুরু হয়েছিল, ৩০০-র বেশি ছবি আর নয়টি ভাষায় অভিনয় শেষে, সেই রঙিন দুনিয়া ছাড়ার অভিজ্ঞতা যেন কোনো রূপোলি পর্দার স্ক্রিপ্টকেও টেক্কা দেয়।

ঘটনার শুরুটা কিন্তু কোনও সুপরিকল্পিত অডিশন দিয়ে হয়নি, হয়েছিল একেবারে নাটকীয়ভাবে! ‘ফকিরা’ ছবির সেটে চঞ্চল চার বছরের রবি গিয়ে সটান বসে পড়েছিলেন খোদ শশী কাপুরের নিজস্ব চেয়ারে। শশী কাপুর যখন নিজের চেয়ার দাবি করেন, রবি একগাল হেসে উত্তর দিয়েছিল, "কমপ্রোমাইজ করি? আপনি চেয়ারে বসুন, আমি আপনার কোলে বসছি!" এই অদম্য আত্মবিশ্বাস আর মিষ্টি স্বভাব মন জয় করে নেয় তৎকালীন তারকার। বাস, নির্দেশককে বলে সাথে সাথেই তাকে নেওয়া হলো শবানা আজমির চার বছরের ছেলের চরিত্রে।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আশির দশকে যখন একটা শটের জন্য মহার্ঘ্য রিল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকত, তখন ছোট রবি ছিলেন পরিচালকদের নয়নের মণি—কারণ তাঁর ছিল ‘ওয়ান টেক ওকে’র তকমা! এক দিনে চার-চারটি শিফটে কাজ করতেন, দৈনিক রোজগার ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা (যার আজকের মূল্য প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা)। এমনকি এক ছবির শুটিংয়ে আসল সিংহীর দুধ পর্যন্ত খেয়েছিলেন তিনি! তবে, অতিরিক্ত সাফল্য কড়ে আঙুলে কেড়ে নিয়েছিল শৈশবকে। ৮ বছরের রবি ভাবতেন ২৪ বছরের প্রাপ্তবয়স্কদের মতো।

মনমোহন দেশাই চেয়েছিলেন তাকে হিরো হিসেবে লঞ্চ করতে, কিন্তু নির্দেশকের আচমকা প্রয়াণে বদলে যায় সব অঙ্ক। চলচ্চিত্র জগতের সেই মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্তে মন খারাপ করে বসে থাকেননি রবি। নিজেকে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এক লহমায়। কোনো পড়াশোনার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও culinary arts নিয়ে পড়াশোনা করে বনে যান পেশাদার শেফ। কাজ করেন ঐতিহ্যবাহী তাজ (Taj) গ্রুপে।

আজ তিনি নামী কর্পোরেট সংস্থায় উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক প্রধান। অথচ তাঁর স্বপ্নের চাকা কিন্তু থেমে নেই! একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউট খোলার পরিকল্পনা করছেন, অন্যদিকে শৈশবের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন ‘পাইলট’ হওয়ার জন্য যোগ দিয়েছেন বম্বে ফ্লাইং ক্লাবে। মাস্টার রবির এই জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়—ক্যামেরার ‘কাট’ বলেই জীবনের গল্প শেষ হয়ে যায় না; নতুন ডায়লগ আর নতুন চরিত্রে জীবনকে জেতার নামই আসল হিরোগিরি!

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews MasterRavi JuniorAmitabhBachchan RaviValecha ChildActorToCorporateLeader

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশুতারকা থেকে কর্পোরেট, মাস্টার রবির রোমাঞ্চকর জীবনের ‘সেকেন্ড ইনিংস’!

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মুম্বই : সিনেমার রুপোলি পর্দা আর গ্ল্যামারের আলো কাকাকে না টানে? কিন্তু সেই আলোর বৃত্ত থেকে হেঁটে বেরিয়ে একদম নতুন পরিচয় তৈরি করা? গল্পটা ঠিক সেখানেই রূপকথা হয়ে ওঠে। চশমা জোড়া চোখে আজ তিনি একজন কেতাদুরস্ত কর্পোরেট লিডার, কিন্তু আশির দশকের পর্দায় তিনিই ছিলেন ‘জুনিয়র অমিতাভ বচ্চন’। নাম রবি ভালেচা—সিনেমা প্রেমীদের কাছে যিনি চিরকালের ‘মাস্টার রবি’। চার বছর বয়সে যার পথচলা শুরু হয়েছিল, ৩০০-র বেশি ছবি আর নয়টি ভাষায় অভিনয় শেষে, সেই রঙিন দুনিয়া ছাড়ার অভিজ্ঞতা যেন কোনো রূপোলি পর্দার স্ক্রিপ্টকেও টেক্কা দেয়।ঘটনার শুরুটা কিন্তু কোনও সুপরিকল্পিত অডিশন দিয়ে হয়নি, হয়েছিল একেবারে নাটকীয়ভাবে! ‘ফকিরা’ ছবির সেটে চঞ্চল চার বছরের রবি গিয়ে সটান বসে পড়েছিলেন খোদ শশী কাপুরের নিজস্ব চেয়ারে। শশী কাপুর যখন নিজের চেয়ার দাবি করেন, রবি একগাল হেসে উত্তর দিয়েছিল, "কমপ্রোমাইজ করি? আপনি চেয়ারে বসুন, আমি আপনার কোলে বসছি!" এই অদম্য আত্মবিশ্বাস আর মিষ্টি স্বভাব মন জয় করে নেয় তৎকালীন তারকার। বাস, নির্দেশককে বলে সাথে সাথেই তাকে নেওয়া হলো শবানা আজমির চার বছরের ছেলের চরিত্রে।এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আশির দশকে যখন একটা শটের জন্য মহার্ঘ্য রিল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকত, তখন ছোট রবি ছিলেন পরিচালকদের নয়নের মণি—কারণ তাঁর ছিল ‘ওয়ান টেক ওকে’র তকমা! এক দিনে চার-চারটি শিফটে কাজ করতেন, দৈনিক রোজগার ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা (যার আজকের মূল্য প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা)। এমনকি এক ছবির শুটিংয়ে আসল সিংহীর দুধ পর্যন্ত খেয়েছিলেন তিনি! তবে, অতিরিক্ত সাফল্য কড়ে আঙুলে কেড়ে নিয়েছিল শৈশবকে। ৮ বছরের রবি ভাবতেন ২৪ বছরের প্রাপ্তবয়স্কদের মতো।মনমোহন দেশাই চেয়েছিলেন তাকে হিরো হিসেবে লঞ্চ করতে, কিন্তু নির্দেশকের আচমকা প্রয়াণে বদলে যায় সব অঙ্ক। চলচ্চিত্র জগতের সেই মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্তে মন খারাপ করে বসে থাকেননি রবি। নিজেকে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এক লহমায়। কোনো পড়াশোনার প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও culinary arts নিয়ে পড়াশোনা করে বনে যান পেশাদার শেফ। কাজ করেন ঐতিহ্যবাহী তাজ (Taj) গ্রুপে।আজ তিনি নামী কর্পোরেট সংস্থায় উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক প্রধান। অথচ তাঁর স্বপ্নের চাকা কিন্তু থেমে নেই! একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউট খোলার পরিকল্পনা করছেন, অন্যদিকে শৈশবের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন ‘পাইলট’ হওয়ার জন্য যোগ দিয়েছেন বম্বে ফ্লাইং ক্লাবে। মাস্টার রবির এই জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়—ক্যামেরার ‘কাট’ বলেই জীবনের গল্প শেষ হয়ে যায় না; নতুন ডায়লগ আর নতুন চরিত্রে জীবনকে জেতার নামই আসল হিরোগিরি!হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত