কলকাতাঃ বর্ষার মরসুমে রাজ্য জুড়ে বেড়েছে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত। এবার তা রুখতে সরাসরি মাঠে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় স্বাস্থ্য ভবনে বড় বৈঠক ডেকেছেন তিনি। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে একাধিক দফতরকে একসঙ্গে নিয়ে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বৈঠকে শুধু পুরসভা নয়, বৈঠকে পুর ও নগরোন্নয়ন, পরিবহণ এবং সেচ দফতরের সচিবদেরও ডাকা হয়েছে। থাকবেন রেলের আধিকারিকরাও। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ডেঙ্গি নিয়ে এত বড় পরিসরে পর্যালোচনা বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের আমলে সাধারণত নবান্ন থেকেই ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হত। এবার স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক করার সিদ্ধান্ত বিশেষ নজর কেড়েছে। প্রশাসনের অন্দরে উদ্বেগের আরেকটি কারণ পুরসভাগুলির বর্তমান পরিস্থিতি। অভিযোগ, ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ বর্তমানে আয়ুষ্মান সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। ফলে মশার উৎস চিহ্নিত করা এবং লার্ভা নিধনের কাজে কোথাও কোথাও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের নজরদারিতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গি পজিটিভ রোগীদের মৃত্যুও হিসাবের মধ্যে ধরলে সংখ্যাটি ১০। আগস্টের ১৯ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৩৫। আক্রান্তের হার ০.৭ শতাংশ। যদিও গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের হার কিছুটা কম। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন করে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ির মাল ও মাটিয়ালি, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও রঘুনাথগঞ্জ-২, পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও পূর্বস্থলি-১, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-১ ও ভাঙড়-২ এবং নদিয়ার তেহট্ট-১ ও চাকদহকে বিশেষ নজরে রাখা হচ্ছে।
বিষয় : CM Suvendu Adhikari Dengue

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন