নদিয়াঃ ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে স্বামীকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে খাওয়া-দাওয়ার পর আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে খুন করা হয়েছে। নদিয়ার শান্তিপুরের এই ঘটনায় কাঠগড়ায় মৃতের স্ত্রী এবং তাঁর কথিত প্রেমিক।
মৃতের নাম তপন দাস। শান্তিপুরের হরে কৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। প্রায় ২৩ বছর আগে হরিপুরের বাসিন্দা মনিকা দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ১৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, বাগআঁচড়ার বাসিন্দা তারক বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মনিকা। এরপর সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের দাবি, প্রায় আট মাস ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তপন। এর মধ্যেই জরুরি কিছু কাগজপত্রের কাজ এবং ছেলেকে দেখানোর কথা বলে তাঁকে হরিপুরের শ্বশুরবাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর তপনকে মিষ্টি এবং কোল্ড ড্রিংকস খেতে দেওয়া হয়েছিল। এরপর রাত থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তপন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
তপনের মৃত্যুর পরই পরিবারের তরফে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের তির স্ত্রী মনিকা দাস এবং তাঁর কথিত প্রেমিক তারক বিশ্বাসের দিকে। পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করেই তপনকে ডেকে এনে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দু’জনের কোনও সন্ধান মিলছে না। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন