Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কোথাও ভাইয়ের হাতে রাখি, কোথাও গবাদি পশুর পুজো! দেশজুড়ে রাখির এমন রূপ জানেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
কোথাও ভাইয়ের হাতে রাখি, কোথাও গবাদি পশুর পুজো! দেশজুড়ে রাখির এমন রূপ জানেন?
এ আই নির্মিত ছবি

ভাদ্রের ভরা পূর্ণিমার আলোয় বোন এবং দিদিরা ভাই এবং দাদাদের মঙ্গল কামনায় তাঁদের হাতে সুরক্ষার সুতো বাঁধেন। সুখে-দুঃখে পাশে থাকার আর আজীবন আগলে রাখার নিঃশব্দ এক প্রতিশ্রুতি নিয়েই এই সুতো বাঁধা হয়। যার নাম রাখি।  তবে আমাদের এই বৈচিত্র্যময় দেশে রাখির উৎসব কেবল এই চেনা সম্পর্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ভৌগোলিক রূপ আর আঞ্চলিক সংস্কৃতির ছোঁয়ায় দেশের নানা প্রান্তে এই পার্বণ ধরা দেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙে, ভিন্ন ভাবে। অঞ্চলভেদে বদলে যায় তার নামও—কোথাও তা ‘পবিত্রপোনা’, কোথাও ‘গমহা’, আবার কোথাও পরিচিত ‘নারোলি’ নামে। কোথাও পুজো হয় সমুদ্রের, কোথাও গরু-বাছুরের, আবার কোথাও বদলে যায় রাখির নামই! শুনতে অবাক লাগছে? জেনে নিন দেশের নানা প্রান্তে রাখি কীভাবে পালিত হয়।”



প্রথমেই আসি পশ্চিমবঙ্গের কথায়। এখানে রাখির দিনে অনেক বাড়ি ও মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের পুজো হয়। তবে বাংলায় রাখির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিও। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিতে রবীন্দ্রনাথ রাখিবন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে তিনি ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়েছিলেন। আজও সেই ভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


রাজস্থান:

মারওয়াড়ি পরিবারে শুধু ভাই নয়, তাঁর স্ত্রীও রাখি উৎসবের অংশ হন। ভাইয়ের হাতে রাখির পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর চুড়িতেও বাঁধা হয় বিশেষ রাখি, যার নাম ‘লুম্বা’। এর মাধ্যমে পরিবারে মহিলাদের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।


এরপর মহারাষ্ট্র ও গোয়া:

এখানে রাখির দিন পালিত হয় ‘নারালি পূর্ণিমা’। কোলি সম্প্রদায়ের জেলেরা সমুদ্রের দেবতা বরুণের পুজো করেন এবং সমুদ্রে নারকেল অর্পণ করেন। এরপর শুরু হয় নতুন মরসুমের মাছ ধরা।


ওড়িশাতে আবার অন্য চিত্র। 

ওড়িশায় এই দিনটি ‘গমহা পূর্ণিমা’ বা বলরাম জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। কৃষকেরা গবাদি পশুকে স্নান করিয়ে সাজিয়ে পুজো করেন। বাড়িতে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠে-পুলি।


গুজরাতের কথা বললে, এখানে রাখি পরিচিত ‘পবিত্রোপনা’ নামে। এই দিনে শিবমন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে জল ও দুধ দিয়ে পুজো করা হয়। বিশেষ সুতোও শিবলিঙ্গে অর্পণ করা হয়। বিশ্বাস, এতে পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


উত্তরাখণ্ড:

এখানে পূর্ণিমার দিনে পালিত হয় ‘উপকর্ম’। পুরুষেরা পবিত্র জলাধারে স্নান করে পুরনো পৈতে বদলে নতুন পৈতে ধারণ করেন। পরিবারের মঙ্গল কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।

বিষয় : festival westbengalfestival ODISHACULTURE RAKHSHABANDHAN INDIANCULTURE GUJRAT

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


কোথাও ভাইয়ের হাতে রাখি, কোথাও গবাদি পশুর পুজো! দেশজুড়ে রাখির এমন রূপ জানেন?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
ভাদ্রের ভরা পূর্ণিমার আলোয় বোন এবং দিদিরা ভাই এবং দাদাদের মঙ্গল কামনায় তাঁদের হাতে সুরক্ষার সুতো বাঁধেন। সুখে-দুঃখে পাশে থাকার আর আজীবন আগলে রাখার নিঃশব্দ এক প্রতিশ্রুতি নিয়েই এই সুতো বাঁধা হয়। যার নাম রাখি।  তবে আমাদের এই বৈচিত্র্যময় দেশে রাখির উৎসব কেবল এই চেনা সম্পর্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ভৌগোলিক রূপ আর আঞ্চলিক সংস্কৃতির ছোঁয়ায় দেশের নানা প্রান্তে এই পার্বণ ধরা দেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙে, ভিন্ন ভাবে। অঞ্চলভেদে বদলে যায় তার নামও—কোথাও তা ‘পবিত্রপোনা’, কোথাও ‘গমহা’, আবার কোথাও পরিচিত ‘নারোলি’ নামে। কোথাও পুজো হয় সমুদ্রের, কোথাও গরু-বাছুরের, আবার কোথাও বদলে যায় রাখির নামই! শুনতে অবাক লাগছে? জেনে নিন দেশের নানা প্রান্তে রাখি কীভাবে পালিত হয়।”প্রথমেই আসি পশ্চিমবঙ্গের কথায়। এখানে রাখির দিনে অনেক বাড়ি ও মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের পুজো হয়। তবে বাংলায় রাখির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিও। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিতে রবীন্দ্রনাথ রাখিবন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে তিনি ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিয়েছিলেন। আজও সেই ভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্থান:মারওয়াড়ি পরিবারে শুধু ভাই নয়, তাঁর স্ত্রীও রাখি উৎসবের অংশ হন। ভাইয়ের হাতে রাখির পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর চুড়িতেও বাঁধা হয় বিশেষ রাখি, যার নাম ‘লুম্বা’। এর মাধ্যমে পরিবারে মহিলাদের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।এরপর মহারাষ্ট্র ও গোয়া:এখানে রাখির দিন পালিত হয় ‘নারালি পূর্ণিমা’। কোলি সম্প্রদায়ের জেলেরা সমুদ্রের দেবতা বরুণের পুজো করেন এবং সমুদ্রে নারকেল অর্পণ করেন। এরপর শুরু হয় নতুন মরসুমের মাছ ধরা।ওড়িশাতে আবার অন্য চিত্র। ওড়িশায় এই দিনটি ‘গমহা পূর্ণিমা’ বা বলরাম জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। কৃষকেরা গবাদি পশুকে স্নান করিয়ে সাজিয়ে পুজো করেন। বাড়িতে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠে-পুলি।গুজরাতের কথা বললে, এখানে রাখি পরিচিত ‘পবিত্রোপনা’ নামে। এই দিনে শিবমন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে জল ও দুধ দিয়ে পুজো করা হয়। বিশেষ সুতোও শিবলিঙ্গে অর্পণ করা হয়। বিশ্বাস, এতে পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।উত্তরাখণ্ড:এখানে পূর্ণিমার দিনে পালিত হয় ‘উপকর্ম’। পুরুষেরা পবিত্র জলাধারে স্নান করে পুরনো পৈতে বদলে নতুন পৈতে ধারণ করেন। পরিবারের মঙ্গল কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত